জম্মু অঞ্চলের পুলিশ প্রধান ভীম সেন তুতি জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে দ্রুত সেনা, পুলিশ ও সিআরপিএফের অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 October 2025 07:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) রাজৌরি জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয় (Encounter Breaks Out Between Police, Terrorists)। গুলির আওয়াজে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। দুপক্ষের সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভূস্বর্গ।
পুলিশ জানায়, গতকাল সন্দেহভাজন কয়েকজনের গতিবিধির খবর পেয়ে একটি দল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল। সেই সময় জঙ্গিরা আচমকা গুলি চালায়। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয় পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (SOG)। রাজৌরির বীরণ্থুব (Beeranthub) এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়।
জম্মু অঞ্চলের পুলিশ প্রধান ভীম সেন তুতি জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে দ্রুত সেনা, পুলিশ ও সিআরপিএফের অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, 'রাজৌরির কাণ্ডি থানার বীরণ্থুব এলাকায় সন্ত্রাসী ও SOG দলের মধ্যে গুলি চলে। পুলিশ, সেনা ও সিআরপিএফের যৌথ দল এলাকায় পৌঁছে চারদিক ঘিরে ফেলেছে।'
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং তল্লাশি অভিযান চলছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তা বাহিনী উধমপুর জেলার ধার্নি টপ এলাকাতেও আলাদা করে অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে। জঙ্গিরা এলাকার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাদের খোঁজার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের মতে, পুঞ্চ-রাজৌরি এলাকা গত কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে এই অঞ্চলে একাধিক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অভিযানে সেনা ও পুলিশ একযোগে কাজ করছে।
গত মাসেই জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) উধমপুরে সেনা অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক জওয়ান (Indian Army Jawan)। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দোদা-উধমপুর সীমান্তে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি বিনিময় শুরু হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রায় একই সময় পুঞ্চ সেক্টর (Poonch Sector) থেকে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করে ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army)। তার মধ্যে ছিল চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, কার্তুজ, ম্যাগাজিন। সেনার সন্দেহ, বড় কোনও হামলার ছক করেই এই অস্ত্র মজুত করে রাখা হয়েছিল।
গত মাসেরই ৮ তারিখ কুলগামে (Kulgham) সেনা অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন দু’জন জওয়ান। তবে বিগত কয়েক মাসে বড় রকমের সাফল্যও পেয়েছে বাহিনী। অগস্ট মাসেই উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলায় দুই লস্কর জঙ্গিকে খতম করা হয়। একই সঙ্গে, তল্লাশি অভিযানে প্রচুর অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছিল সেনা।
সেই ঘটনার মাত্র কদিন আগেই কুলগামে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয় দুই জঙ্গি। অন্যদিকে, জম্মুর আরএস পুরা সেক্টরে আন্তর্জাতিক সীমান্তে এক পাক অনুপ্রবেশকারীকে পাকড়াও করে বিএসএফ। অক্ট্রই আউটপোস্টে অনুপ্রবেশের চেষ্টা লক্ষ্য করেন জওয়ানরা। তাকে চ্যালেঞ্জ করা হলে কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। পরে সীমান্ত বেড়ার কাছে ধরা পড়ে সে। ধৃতের নাম সিরাজ খান।