কমিশন ২০২২ সালের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবদেন করেছিল সুপ্রিম কোর্টে। তা নিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

মুসলিম পার্সোনাল আইন অনুসারে কোনও মুসলিম মেয়ে তার বয়ঃসন্ধিকাল অথবা ১৫ বছরের বেশি হলেই আইনত তার পছন্দের কাউকে বিয়ে করতে পারে।
শেষ আপডেট: 19 August 2025 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশু অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় কমিশনের (NCPCR) আগ বাড়িয়ে করা একটি মামলা মঙ্গলবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে এ ধরনের মামলা করার আগে ভাবনাচিন্তা না করা ও আইন সংক্রান্ত ধ্যানধারণা না থাকা নিয়েও ভর্ৎসনা করে সর্বোচ্চ আদালত। কমিশন ২০২২ সালের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবদেন করেছিল সুপ্রিম কোর্টে। তা নিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ১৬ বছরের একটি মুসলিম মেয়ের সঙ্গে ৩০ বছরের এক ব্যক্তির বিয়েকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং দম্পতি ও তাদের সন্তানের সুরক্ষা দেওয়ার কথাও নির্দেশে বলেছিল।
হাইকোর্ট বলেছিল, মুসলিম পার্সোনাল আইন অনুসারে কোনও মুসলিম মেয়ে তার বয়ঃসন্ধিকাল অথবা ১৫ বছরের বেশি হলেই আইনত তার পছন্দের কাউকে বিয়ে করতে পারে। এর সঙ্গে প্রটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস আইনের (POCSO) কোনও সম্পর্ক নেই। উচ্চ আদালত স্বামী জাভেদ ও আশিয়ানাকে জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশও দেয়।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্ন এবং বিচারপতি আর মাধবনের বেঞ্চ শিশু অধিকার কমিশনকে ব্যাপক ভর্ৎসনা করে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য। আদালত বলেছে, ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করার কোনও এক্তিয়ার আপনাদের নেই। হাইকোর্ট যদি দুই নাবালককে (আশিয়ানা ও তার সন্তান) নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে থাকে তাকে চ্যালেঞ্জ করার আপনারা কে? একটি নাবালিকাকে আদালত সুরক্ষা দিলে এনসিপিসিআরের জ্বালা ধরার কারণ কী তা আমরা বুঝতে পারছি না।
আদালত আরও বলে, মেয়েটি যখন তার স্বামী-সন্তানের সঙ্গে ঘরকন্না করছে তখন আপনাদের সমস্যাটা কী? বিচারপতি নাগারত্ন প্রশ্ন তোলেন। শুনানি চলাকালীন এনসিপিসিআরের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাট্টি বলেন, একটি ১৫ বছরের মেয়ে কী করে পার্সোনাল ল-য়ের অধীনে বিয়ে করতে পারে? যে দেশে বাল্যবিবাহ আইন এর বিরুদ্ধে, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স এদেশে ১৮ বছর বলে স্বীকৃত। এই যুক্তি মানতে অস্বীকার করে শীর্ষ আদালত। আদালত বলেছে, মামলাটি কেবলমাত্র জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আপনার যদি এই প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন হয়, তাহলে সঠিকভাবে মামলা করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট একইসঙ্গে তিনটি অন্য আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, দুপক্ষের সম্মতির সম্পর্ক ও অপরাধমূলক আচরণের মধ্যে ফারাক তৈরি করার ব্যাপারে কমিশনকে সতর্ক করে দিয়েছে বেঞ্চ। বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, রোমান্টিক বা প্রেমের সম্পর্কগুলিকে আমাদের আলাদা করে ফেলা উচিত। এগুলিকে বাদ দেওয়াই উচিত। কমিশনকে বলেন, আপনারা ভাল কোনও মামলার আবেদন নিয়ে আসবেন।
আদালত বলেছে, আপনারা কি বলতে চান যে, ভালবাসা অপরাধ? পকসো আইন অপরাধঘটিত বিষয়ের জন্য। কিন্তু এখানেই অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলির পিছনে রয়েছে প্রেম। যেখানে বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েরা পালিয়ে যায়। এরকমের ঘটনাকে অপরাধের মামলার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না, এগুলিকে আলাদা চোখে দেখার চেষ্টা করুন, বলে আদালত। নাগারত্ন আরও বলেন, একটি মেয়ে একটি ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যায়। কিন্তু তার বাবা-মা পকসো ধারায় মামলা করেন যাতে মেয়ে পালানোর ঘটনাটি চাপা দেওয়া যায়। এজন্যই পরিবারের সম্মানরক্ষায় খুনের ঘটনাও ঘটে, মন্তব্য বিচারপতি।