প্ল্যান ছিল, বাইকে করে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে তেজেশ্বরকে নিয়ে বেরোবেন ঐশ্বর্য, মাঝপথেই তাঁদের ওপর হামলা হবে, তেজেশ্বর মারা যাবেন, আর ঐশ্বর্যকে অপহরণ করা হবে। পুলিশকে অপহরণ (Kidnapping) ও খুনের ধোঁয়াশায় বিভ্রান্ত করাই ছিল অভিযুক্তদের লক্ষ্য। শেষপর্যন্ত এই পরিকল্পনা পরে বাদ দিয়ে তাঁরা অন্য বুদ্ধি আঁটেন।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 26 June 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের এক মাস পরই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের যুবক তেজেশ্বর (Andhra Pradesh Man Murder Case)। অবশেষে একটি খাল থেকে উদ্ধার হয় তাঁর পচাগলা দেহ। পরিবারের তরফে স্ত্রীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। পুলিশ তদন্ত শুরু করতেই উঠে এল ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের কাহিনি। স্ত্রী ঐশ্বর্য (২৩) এবং তাঁর প্রেমিক তিরুমল রাও মিলে একের পর এক ছক কষেছিলেন স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার। এই ঘটনায় মা-মেয়ের ত্রিকোণ প্রেমের 'তত্ত্ব' উঠে এসেছে।
গড়ওয়াল পুলিশ জানিয়েছে, তেজেশ্বরকে খুনের আগে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড (Raja Raghuvanshi Murder Case) নিয়ে আলোচনা করেছিলেন ঐশ্বর্য ও তিরুমল রাও। সেই ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই খুনের ছক কষবেন বলে ঠিক করেছিলেন। প্ল্যান ছিল, বাইকে করে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে তেজেশ্বরকে নিয়ে বেরোবেন ঐশ্বর্য, মাঝপথেই তাঁদের ওপর হামলা হবে, তেজেশ্বর মারা যাবেন, আর ঐশ্বর্যকে অপহরণ করা হবে। পুলিশকে অপহরণ (Kidnapping) ও খুনের ধোঁয়াশায় বিভ্রান্ত করাই ছিল অভিযুক্তদের লক্ষ্য। শেষপর্যন্ত এই পরিকল্পনা পরে বাদ দিয়ে তাঁরা অন্য বুদ্ধি আঁটেন।
ঐশ্বর্য নিজের স্বামীর বাইকে জিপিএস (GPS) বসিয়েছিলেন। পাশাপাশি তাঁর কল রেকর্ডে দেখা গিয়েছে ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে তিরুমলের সঙ্গে ২ হাজারের বেশি বার ফোনে কথা হয়েছে। বিয়ের দিনও ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন তাঁরা।
পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, খুনের ঘটনার দিন ভাড়া করা খুনিরা তেজেশ্বরকে জমি মাপার নাম করে গাড়িতে করে নিয়ে যায়। চালকের পাশের আসনে বসা অবস্থাতেই তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়, অচৈতন্য হয়ে গেলে ধারাল অস্ত্র দিয়ে গলা কাটা হয়, পেটেও একাধিক আঘাত করা হয়েছে। এরপর মৃতদেহ গাড়ির ডিকিতে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রক্তমাখা পোশাক পাল্টে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা তিরুমলকে মৃতদেহ দেখিয়ে খালে ফেলে দেয়।
এদিকে তেজেশ্বরের কোনও খোঁজখবর পাওয়া না গেলে তাঁর পরিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমেই অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুল জেলার একটি মাঠে পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহের ডান হাতে 'আম্মা' লেখা ট্যাটু দেখে দেহ শনাক্ত করে তেজেশ্বরের পরিবার।
ঐশ্বর্যের মা সুজাতা প্রথমে বেসরকারি সংস্থার কর্মী তিরুমল রাওয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। মায়ের অফিসে গিয়েই তিরুমলের সঙ্গে পরিচয় হয় তরুণীর। ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। তিরুমল নিজেও বিবাহিত, তাঁকেও খুন করতে ছক কষেছিলেন তিনি, এমনই দাবি পুলিশের।
খুনের পরও ঐশ্বর্য স্বামীর বাড়িতেই ছিলেন। যেন কিছুই হয়নি! কিন্তু তেজেশ্বরের দাদা বলেন, 'ও একফোঁটা চোখের জল ফেলেনি। তখনই সন্দেহ হয়।' এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ঐশ্বর্য, তিরুমল, ঐশ্বর্যের মা সুজাতা, তিরুমলের বাবা (এক প্রাক্তন কনস্টেবল), ৩ জন ভাড়াটে খুনি এবং এক প্রতিবেশী, যিনি তেজেশ্বরের গতিবিধির উপর নজরে রাখছিলেন।