ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় এলপিজি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে ভারতে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোলিয়াম ও বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বৈঠকের আগে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে
শেষ আপডেট: 10 March 2026 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে এলপিজি (Liquefied Petroleum Gas বা LPG) সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মঙ্গলবার পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri) এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar) সঙ্গে বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। লক্ষ্য একটাই-দেশের সাধারণ গ্রাহকদের উপর যাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব না পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়া। আমেরিকা (United States), ইজরায়েল (Israel) এবং ইরানের (Iran) সামরিক সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অথচ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশ আমদানি করে। তার মধ্যে আবার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ আমদানি, বিশেষ করে সৌদি আরব (Saudi Arabia)-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এলপিজি, হরমুজ প্রণালী দিয়েই দেশে পৌঁছয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে আপাতত উপলব্ধ মজুতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বছরে প্রায় ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ ব্যবহার হয় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস (Domestic Cooking Gas) হিসেবে। বাকি ১৩ শতাংশ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র—হোটেল, রেস্তরাঁ এবং শিল্প প্রতিষ্ঠান। সূত্রের খবর, সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষিত রাখতে গৃহস্থালি খাতে গ্যাস সরবরাহকেই এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাজারদরে সিলিন্ডার ব্যবহার করা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মুম্বই (Mumbai), বেঙ্গালুরু (Bengaluru)-সহ একাধিক বড় শহরে হোটেল ও রেস্তরাঁ শিল্পে এলপিজি ঘাটতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া হোটেলস অ্যান্ড রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশন (India Hotels and Restaurant Association)।
সংকট মোকাবিলায় একাধিক জরুরি পদক্ষেপ করেছে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক (Ministry of Petroleum and Natural Gas)। দেশের রিফাইনারিগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের কিছু অংশ কমিয়ে গ্যাস উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য এলপিজি রিফিল বুকিংয়ের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ২১ দিনে একবার বুকিং করা যেত, এখন তা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য মজুতদারি এবং কালোবাজারি রোধ করা।
গৃহস্থালি ব্যবহারের বাইরে আমদানিকৃত এলপিজির একটি অংশ হাসপাতাল (Hospitals) এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (Educational Institutions) মতো জরুরি পরিষেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল বিপণন সংস্থাগুলির (Oil Marketing Companies বা OMCs) তিন জন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরকে (Executive Director বা ED) নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি হোটেল, রেস্তরাঁ এবং শিল্প ক্ষেত্রের আবেদন খতিয়ে দেখে “প্রয়োজন, অগ্রাধিকার ও উপলব্ধতা” অনুযায়ী গ্যাস বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেবে।
এই প্রসঙ্গে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (Hindustan Petroleum Corporation Limited বা HPCL) জানিয়েছে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকারও জানিয়েছে, এই ভূরাজনৈতিক সংকটের সময়ে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ওই বিশেষ কমিটিই।