বিমান বাতিল (flight cancellations) হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগও বাড়ছে। রাজস্থানের এক যাত্রী বলেন, “লেবাননে যাওয়ার জন্য আজ সকালে দিল্লি এসেছি। এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।”
.jpg.webp)
বিমানবন্দরে অপেক্ষায় যাত্রীরা
শেষ আপডেট: 1 March 2026 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতেও (India)। বিমান পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত। শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পরপরই সেখানকার একাধিক দেশ আকাশপথ বন্ধ করে দেয় (flight cancellations India)। এরফলে গতকাল থেকেই বহু যাত্রী বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন (Middle East tensions flights)। কখনও পরিষেবা পাওয়া যাবে, তাও জানেন না। রবিবারও দৃশ্যটা ঠিক একই (India passengers stranded)।
ভারতের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA) জানিয়েছে, রবিবার মোট ৪৪৪টি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করা হয়েছে। এর আগে শনিবারও ৪০০-র বেশি বিমান বাতিল করা হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে (Israel conflict impact flights) ভারতীয় এয়ারলাইনগুলিকে (Indian Airlines) ইরান, ইজরায়েল, লেবানন, ইউএই, সৌদি আরব, ওমান, ইরাক, জর্ডন, কুয়েত, কাতারসহ মোট ১১টি দেশের আকাশপথ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।
বিমান বাতিল (flight cancellations) হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগও বাড়ছে। রাজস্থানের এক যাত্রী বলেন, “লেবাননে যাওয়ার জন্য আজ সকালে দিল্লি এসেছি। এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।” লন্ডনে কর্মরত এক যুবক বলেন, "আমি ইতিমধ্যেই বাড়তি ছুটিতে আছি। সোমবার থেকে অফিসে জয়েনিং ছিল। এখন সব অনিশ্চিত।”
দুবাই সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করা দুই যাত্রী জানান, তাঁদের হোটেল বুকিং, রিটার্ন ফ্লাইট- সবই করা ছিল। এখন সব কিছুই ভেস্তে গেছে।
এদিকে দিল্লির মতো পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে চেন্নাই, চণ্ডীগড়, মুম্বই সহ আরও বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে। কোথাও লম্বা লাইন, কোথাও যাত্রীদের চোখে উদ্বেগ- সব মিলিয়ে বিমানবন্দরগুলোর পরিবেশ হয়ে উঠেছে চাপা আতঙ্কে ভরা।
এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, আকাসা এয়ার, স্পাইস জেট- ভারতের প্রায় সব সব বড় এয়ারলাইনই পশ্চিমী এশিয়ার বিমান বাতিল করেছে।
কেন এমন পরিস্থিতি?
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার ভোরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন যে তাঁরা ইরানের 'দীর্ঘদিনের হুমকি' শেষ করতে যৌথ হামলা চালিয়েছেন। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
এর জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আক্রমণ চালায়। এর জেরেই আরব দুনিয়ার একাধিক অংশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশপথ বন্ধ রাখা হয়।
রবিবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ৮৬ বছর বয়সি এই নেতার নিহত হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তাঁকে 'ইতিহাসের অন্যতম খারাপ মানুষ' বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।