ইরানের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু আন্তর্জাতিক উড়ান ঘুরপথে চলছে, বেড়েছে যাত্রার সময়। যাত্রীদের সতর্ক করে কী জানাল ইন্ডিগো ও স্পাইসজেট?

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 January 2026 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের আকাশপথ আচমকা বন্ধ। তার জেরে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই একের পর এক আন্তর্জাতিক রুটে ধাক্কা খেল উড়ান পরিষেবা। প্রভাব পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়া (Air India), ইন্ডিগো (IndiGo) এবং স্পাইসজেট (SpiceJet)—এই তিন বড় বিমান সংস্থার একাধিক বিদেশগামী ও বিদেশফেরত ফ্লাইটে। যাত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই (Ayatollah Khamenei)-এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ জোরালো হয়েছে। পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনাও চরমে। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার ভোরে কোনও ব্যাখ্যা না দিয়ে বাণিজ্যিক উড়ানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় ইরান (Iran)। পাইলটদের জারি করা নোটিসে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতীয় উড়ান সংস্থাগুলিতে। এক্স (X)-এ দেওয়া বার্তায় এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) জানায়, ইরানের আকাশপথ ব্যবহার করা ফ্লাইটগুলিকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাতে দেরি হচ্ছে একাধিক উড়ানে। আবার যেসব রুটে বিকল্প পথ সম্ভব নয়, সেগুলিও বাতিল করা হচ্ছে।
সংস্থার সাফ কথা-যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমানবন্দরে রওনা দেওয়ার আগে যাত্রীদের ফ্লাইট স্ট্যাটাস দেখে নিতে অনুরোধ করেছে তারা।
একই সুর শোনা গেছে ইন্ডিগোর (IndiGo) গলায়। ভোরে দেওয়া আপডেটে তারা জানায়, ইরানের আচমকা আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের কিছু আন্তর্জাতিক পরিষেবা ‘প্রভাবিত’। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রিবুকিং বা রিফান্ডের সুযোগও মিলবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
স্পাইসজেট (SpiceJet)-ও সতর্কতা জারি করেছে। এক্স-এ পোস্ট করে জানানো হয়েছে, ইরানের আকাশপথ বন্ধ থাকায় তাদের কয়েকটি ফ্লাইটে প্রভাব পড়তে পারে। যাত্রীদের ফ্লাইটের অবস্থা অনলাইনে যাচাই করা বা ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
এদিকে বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সেফএয়ারস্পেস (SafeAirspace) জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই বহু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ইরানের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি সম্ভাব্য নিরাপত্তা বা সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিতও হতে পারে—যার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়া বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে অসামরিক বিমানের ভুল শনাক্তকরণের আশঙ্কাও থেকেই যাচ্ছে।
এর আগেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গত জুনে ইজরায়েলের (Israel) সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় এবং ইজরায়েল-হামাস (Israel-Hamas) যুদ্ধ চলাকালীন একাধিকবার আকাশপথ বন্ধ করেছিল ইরান। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবারও সতর্ক বিমান সংস্থাগুলি। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে যাত্রী ও বিমান সংস্থা সকলেই।