সুদখোরের চাপে ১ লক্ষ টাকার ঋণ বেড়ে দাঁড়াল ৭৪ লক্ষে। মহারাষ্ট্রে কিডনি বিক্রি করেও ঋণমুক্ত হতে না পেরে স্বপরিবারে আত্মহত্যার হুমকি এক কৃষকের।

ওই কৃষক
শেষ আপডেট: 16 December 2025 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাষে লোকসান, ঋণের চাপে সর্বস্বান্ত—শেষমেশ প্রাণ বাঁচাতে নিজের কিডনি (Kidney) বিক্রি করতে হল এক কৃষককে। মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর (Chandrapur) জেলার এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এল সুদখোরদের দাপট আর ঋণফাঁদের কঠিন বাস্তব।
মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলার বাসিন্দা রোশন সদাশিব কুড়ে (Roshan Sadashiv Kude) পেশায় কৃষক। টানা কয়েক বছর চাষে ক্ষতি হচ্ছিল। সংসার চালাতে আর ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ডেয়ারি ব্যবসা (Dairy Business) শুরু করবেন। সেই আশাতেই বিভিন্ন মহাজনের কাছ থেকে মোট ১ লক্ষ টাকা (Rs 1 lakh) ধান নেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়ল না। ডেয়ারি ব্যবসা শুরুর আগেই কেনা গরুগুলো মারা যায়। পাশাপাশি জমির ফসলও নষ্ট হয়ে যায়।
এরপরই শুরু হয় ঋণের ভয়াল চক্র। মহাজনেরা দৈনিক ১০ হাজার টাকা সুদ (Rs 10,000 per day interest) চাপাতে থাকে বলে অভিযোগ রোশনের। অল্প সময়ের মধ্যেই ১ লক্ষ টাকার ঋণ ফুলে-ফেঁপে দাঁড়ায় ৭৪ লক্ষ টাকা (Rs 74 lakh)। বাড়িতে গিয়ে হুমকি, মানসিক চাপ-সব মিলিয়ে নাজেহাল হয়ে পড়ে রোশনের পরিবার।
ঋণ শোধ করতে রোশন নিজের জমি, ট্র্যাক্টর এবং বাড়ির দামী জিনিসপত্র পর্যন্ত বিক্রি করেন। তাতেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। ধার মেটে না। অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতেই এক মহাজন তাঁকে পরামর্শ দেন—কিডনি বিক্রি (Kidney Sale) করলে না কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে সেই প্রস্তাবেই রাজি হতে বাধ্য হন রোশন।
একজন এজেন্ট (Agent)–এর মাধ্যমে তাঁকে প্রথমে কলকাতা (Kolkata) নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিভিন্ন মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়। তারপর তাঁকে পাঠানো হয় কাম্বোডিয়া (Cambodia)। সেখানেই অস্ত্রোপচার করে তাঁর একটি কিডনি বের করে নেওয়া হয়। বিনিময়ে রোশন পান ৮ লক্ষ টাকা (Rs 8 lakh)। কিন্তু এত বড় ত্যাগের পরও তাঁর জীবনের সমস্যার শেষ হয়নি।
রোশনের দাবি, গোটা ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন কিন্তু কোনও সুরাহা পাননি। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় তাঁর মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা আরও বেড়েছে। এখন তিনি প্রকাশ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন-যদি বিচার না পান, তাহলে তিনি ও তাঁর পরিবার মুম্বই (Mumbai)–এর মন্ত্রালয় (Mantralaya)–র সামনে আত্মহত্যা করবেন।
এই ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের নামও সামনে এনেছেন ব্যক্তি। অভিযুক্ত মহাজনেরা হলেন-কিশোর বাওয়ানকুলে (Kishore Bawankule), মানিশ কালবান্দে (Manish Kalbande), লক্ষ্মণ উরকুড়ে (Laxman Urkude), প্রদীপ বাওয়ানকুলে (Pradeep Bawankule), সঞ্জয় বাল্লারপুরে (Sanjay Ballarpure) এবং লক্ষ্মণ বরকার (Laxman Borkar)। সকলেই ব্রহ্মপুরী (Brahmapuri) শহরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
এনিয়ে প্রশাসনের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিডনি বিক্রি এত সহজে হল কেমন করে, কোন চক্র এর পিছনে আছে, সেবিষয়ে কোনও তথ্য মেলেনি।
এদিকে এই ঘটনা শুধু একজন কৃষকের জীবনের ট্র্যাজেডি নয়। ঋণের ফাঁদে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে যে কৃষকরা ধুঁকছেন দিনের পর দিন, রোশনের কাহিনি তারই প্রতিচ্ছবি।