পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে ফরিদাবাদের একটি নর্দমা থেকে উদ্ধার হয় বিমা এজেন্ট চন্দেরের দেহ। কাছেই তাঁর মোটরবাইক পাওয়া যায়।

কেশব এবং লক্ষ্মী
শেষ আপডেট: 28 October 2025 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যত কাণ্ড দিল্লিতে (New Delhi)! লিভ-ইন পার্টনারকে (Live-in Partner) খুন করে গ্রেফতার হয়েছেন এক তরুণী। সেই ঘটনা নিয়ে রাজধানী ইতিমধ্যেই তোলপাড়। এবার দিল্লির কাছে ফরিদাবাদে এক বিমা এজেন্টকে খুন করে নর্দমায় দেহ ফেলার অভিযোগে এক মহিলা (Woman) ও তাঁর প্রেমিককে (Fiance) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত মহিলার দাবি, মৃত ব্যক্তি তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছিলেন, তাই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে ফরিদাবাদের (Faridabad) একটি নর্দমা থেকে উদ্ধার হয় বিমা এজেন্ট (Insurance Agent) চন্দেরের দেহ। কাছেই তাঁর মোটরবাইক পাওয়া যায়। বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর থেকে মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, চন্দের পূর্ব দিল্লির বিনোদ নগরের বাসিন্দা। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা দেহ শনাক্ত করেন। মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। চন্দেরের ভাই মদন গোপালের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেফতার করে লক্ষ্মী (২৯) ও কেশবকে (২৬)। পুলিশের মুখপাত্র যশপাল সিং জানিয়েছেন, লক্ষ্মী স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে চন্দেরকে চিনতেন। সম্প্রতি তিনি কেশবের সঙ্গে বাগ্দান সারেন। এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি চন্দের। তিনি লক্ষ্মীকে বিয়ে ভাঙার জন্য হুমকি ও ব্ল্যাকমেল করতে থাকেন। এতে বিরক্ত হয়ে লক্ষ্মী ও কেশব পরিকল্পনা করেন চন্দেরকে খুন করার।
২৫ অক্টোবর, লক্ষ্মী চন্দেরকে ফোন করে দিল্লির মিঠাপুরে ডেকে পাঠান। তাঁর বাইকে চেপে দু’জনে পৌঁছন ফরিদাবাদের আতমাদপুরে, জনশূন্য এলাকায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল কেশব ও তাঁর দুই বন্ধু। তিনজন মিলে চন্দেরকে গলা টিপে এবং মাথায় আঘাত করে খুন করে। পরে দেহটি নর্দমায় ফেলে পালিয়ে যায় তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা চন্দেরের পকেট থেকে পরিচয়পত্রগুলি নিয়ে গিয়েছিল, যাতে তাঁর পরিচয় গোপন থাকে। কিন্তু বাইকের নম্বর থেকে শেষ পর্যন্ত সত্য সামনে আসে। কেশবের দুই সহযোগী এখনও পলাতক, তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এদিকে দিল্লিতে প্রেমিককে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অমৃতা চৌহানকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। জানা গেছে, আগেই তাঁকে ত্যাজ্য করেছে পরিবার! ছাপানো হয় বিজ্ঞাপনও। অমৃতার পরিবার জানিয়েছে, অনেক আগেই তাঁরা যে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন সেটা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আদালতে। তাই এই ঘটনার বিষয়ে তাঁরা কোনও মন্তব্য করতে চান না।
তদন্তে উঠে এসেছে, তরুণী বিএসসি ফরেন্সিক সায়েন্সের (Forensic Science) ছাত্রী ছিলেন। সেই শিক্ষার জ্ঞান ব্যবহার করেই তিনি এমনভাবে খুনের পরিকল্পনা করেন যাতে তা পুলিশের কাছে ‘দুর্ঘটনা’ বলে মনে হয়। তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক ছিলেন এলপিজি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর, ফলে গ্যাস সিলিন্ডার সংক্রান্ত জ্ঞানও কাজে লাগে।