চলতি মাসেই মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকায় পানীয় জলের লাইনে নর্দমার জল মিশে যাওয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শেষ আপডেট: 23 January 2026 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক সপ্তাহ আগেই ইন্দোরে জলবাহিত রোগে (Indore water-borne disease) অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের জলদূষণ ঘিরে আতঙ্কে ভুগছে ইন্দোর (Indore water contamination)। দূষিত জল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অন্তত ২২ জন। তাঁদের মধ্যে ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি (hospitalised) করা হয়েছে, বাকিদের বাড়িতেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সর্বশেষ এই ঘটনাগুলি মূলত মহু (Mhow) এলাকা থেকে সামনে এসেছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, জল খাওয়ার পরেই অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। সেটাই উস্কে দিয়েছে জলে ফের দূষণ ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক।
প্রশাসনের আশঙ্কা, আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আশপাশের এলাকা থেকেও নতুন অসুস্থতার খবর মিলছে।
প্রশাসনের তৎপরতা
বৃহস্পতিবার রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা (district administration response)। আক্রান্ত এলাকাগুলি থেকে খবর আসতে শুরু করতেই তৎপরতা বাড়ানো হয়।
জেলা শাসক শিবম ভার্মা নিজে হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গোটা পরিস্থিতি তদারকি করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক দল আক্রান্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই স্বাস্থ্য দফতরের দল ময়দানে নেমে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
চলতি মাসেই মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকায় পানীয় জলের লাইনে নর্দমার জল মিশে যাওয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
কল আছে, জল নেই
মধ্যপ্রদেশে মাত্র ৩১.৫ শতাংশ পরিবারে নলবাহিত জল সংযোগ রয়েছে, যেখানে জাতীয় গড় ৭০.৯ শতাংশ। কাগজে–কলমে ৯৯.১ শতাংশ গ্রামে পাইপলাইন পৌঁছলেও বাস্তবে মাত্র ৭৬.৬ শতাংশ পরিবারে জল আসে। অর্থাৎ প্রতি চারটি পরিবারের একটিতে হয় কল অচল, নয়তো জলই নেই।
তবে জল এলেও তা যে নিরাপদ, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ইন্দোর জেলাকে সরকারি ভাবে ১০০ শতাংশ জল সংযুক্ত ঘোষণা করা হলেও, সেখানে মাত্র ৩৩ শতাংশ পরিবার পানযোগ্য জল পাচ্ছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ জল নমুনা গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত একটি “system-generated disaster” বা ব্যবস্থা–জনিত বিপর্যয় বলে চিহ্নিত করেছে। জলমানের উন্নতি না হলে চলতি বছরে অর্থ বরাদ্দ কমানোরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।