মধ্যপ্রদেশের এই শহরের সর্ববৃহৎ পোশাক বাজার শীতলামাতা মার্কেটে প্রায় হাজারখানেক মুসলিমদের দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে আতঙ্কে।

বিধায়ক মালিনী গৌরের ছেলে একলব্য সিং গৌর।
শেষ আপডেট: 24 September 2025 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বিধায়কপুত্রের’ হুমকিতে অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার মুখে ইন্দোরের মুসলিম ব্যবসায়ীরা। মধ্যপ্রদেশের এই শহরের সর্ববৃহৎ পোশাক বাজার শীতলামাতা মার্কেটে প্রায় হাজারখানেক মুসলিমদের দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে আতঙ্কে। বিজেপি নেত্রী তথা ইন্দোর-৪ এর বিধায়ক মালিনী গৌরের ছেলে একলব্য সিং গৌর মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সব মুসলিম কর্মচারীদের ২ মাসের মধ্যে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই চরমসীমা শেষ হতে চলেছে আগামী বৃহস্পতিবার। যে কারণে মুসলিম কারিগর নিয়ে চলা এই বাজারের প্রায় এক হাজারের মতো দোকান এখন মাছি মারছে। মুসলিম মালিকরা ঝাঁপ ফেলে দিয়েছেন।
একলব্যকে তাঁর লেজুড় অনুগামীরা বিধায়কপুত্র বলে ডাকেন। এটাই শহরে তাঁর উপাধিস্বরূপ। তাঁর হুমকি ছিল, মুসলিম ব্যবসায়ী ও কারিগররা যাতে দুমাসের ভিতর ভাড়া নেওয়া দোকান খালি করে চলে যান। শীতলামাতা বাজার ব্যাপারী সংগঠনের এক সভায় তিনি এই ফতোয়া জারি করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এই এলাকায় লাভ জেহাদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই এখান থেকে মুসলিম হটাতে হবে।
সংগঠনের এক নেত্রী বলেন, মুসলিম সেলসম্যানরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে খরিদ্দার হাঁকে। এবং পথচলতি মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে বলে বহু অভিযোগ এসেছে। তাই একলব্য ভাইয়া সেই ছেলেগুলিকে টাইট দিতে চাইছেন। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, কেউ মুসলিমদের দোকান ভাড়া দিতে পারবে না। কোনও মুসলিম কর্মী রাখা চলবে না। এবং মুসলিমদের দোকান খালি করে চলে যেতে হবে।
তিনি আরও জানান, শীতলামাতা মার্কেটে এই অভিযান সফল হলে সারা শহরে এই একই নীতি প্রয়োগ করা হবে। অ্যাসোসিয়েশনের আরেক সদস্য জানান, ভাইয়া আমাদের বলেছেন ব্যবসায়ীদের মিষ্টি করে বলে দিতে এবং মুসলিম সেলসম্যান না রাখার বিষয়টি বুঝিয়ে দিতে। ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট বিধায়কপুত্রের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনও জবাব দিতে চাননি। তবে এরকম নির্দেশ তিনি দিয়েছেন বলে স্বীকার করে নেন।
একলব্যের এক স্যাঙাৎ জানিয়েছেন, তাঁরা কর্মী ও কারিগরদের আধারের বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছেন। সব দোকানের মুসলিম কর্মচারীদের নাম ও ঠিকানা জোগাড় হয়ে গিয়েছে। এখন দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি মুসলিম কর্মীর খোঁজ নেওয়া হবে, তারা কোনওভাবে লাভ জেহাদের সঙ্গে জড়িত কিনা। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে বাজার কা শুদ্ধিকরণ। কারণ লাভ জেহাদের সঙ্গে জড়িতেদের এই বাজার থেকে ধুয়েমুছে সাফ করে দেওয়া হবে, এটাই নীতি আমাদের।
একলব্যদের সঙ্গে রয়েছে বজরঙ্গ দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সংগঠনগুলি। তিনি নিজেও হিন্দ রক্ষক সংগঠন নামে একটি দলের আহ্বায়ক। এক চুনো নেতা বলেন, মুসলিম কর্মীদের তাড়িয়ে সেই জায়গায় হিন্দু বেকারদের কাজের সংস্থান করে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু কেউ যদি এই ফতোয়া অমান্য করে তাহলে কী হবে! এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা দোকানদারদের বোঝাব, কিন্তু একলব্য ভাইয়া আমাদের ভালর জন্যই একাজ করছেন।
মুসলিম সেলসম্যানদের বিরুদ্ধ অভিযোগ, তারা হিন্দু ক্রেতা মহিলাদের কাছ থেকে লেটেস্ট ডিজাইনের ছবি পাঠানোর নাম করে তাঁদের ফোন নম্বর নিচ্ছে। এরপর নানান অছিলায় টেক্সট মেসেজ পাঠাচ্ছে যখন-তখন। ২৮ বছর ধরে এই বাজারে কর্মরত মহম্মদ শাহিদ বলেন, আমরা কোনও খরিদ্দারের নম্বর নিই না। শেঠলোগরাই নম্বর নেয়। আমি যে দোকানে কাজ করি, সেখানে মালিকই একমাত্র হিন্দু। আমরা তিন সেলসম্যানই মুসলিম। উনি আমাদের তাড়াতে না চাইলেও বলেছেন, তাঁর হাত-পা বাঁধা। পুলিশ কমিশনার অমিত সিং বলেন, এ ব্যাপারে এখনও কোনও অভিযোগ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।