বিহারে আরজেডির বিপর্যয়ের পিছনে প্রচারের গান-বাজনা অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করলেন এসপি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। নিজের দলকেও সতর্ক করে তিনি জানালেন, প্রচারে সংগীত ও অযথা নজরকাড়া শো বন্ধ করতেই হবে।

তেজস্বী ও অখিলেশ
শেষ আপডেট: 1 December 2025 08:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্টির প্রচারে দলের সংস্কৃতি শাখা যেসব গান নাচ পরিবেশন করবে সেগুলি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আগে পেশ করতে হবে। প্রয়োজনের তিনি নিজেও এগুলি প্রথমে দেখবেন। শীর্ষ নেতৃত্ব অনুমোদন করলে তবেই সংস্কৃতি শাখা দলীয় কার্যক্রমে ওইসব গান-বাজনা পরিবেশন করার সুযোগ পাবে।
উত্তরপ্রদেশের প্রধান বিরোধীদল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এমনই নিদান দিয়েছেন পার্টিকে। বলেছেন এই বিষয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে কোনও কিছু করা যাবে না। এখানেই থেমে না থেকে রবিবার লখনউয়ে দলীয় কার্যালয়ে বাজতে থাকা একটি মিউজিক অখিলেশ বন্ধ থামিয়ে দেন। বলেন, এইসব মিউজিক পার্টি অফিস এবং দলের প্রচার কর্মসূচিতে ব্যবহার করা যাবে না। কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, সকলকেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি সাংসদ অখিলেশের এই নির্দেশিকার পিছনে আছে বিহারে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের অভিজ্ঞতা। পড়শি রাজ্যে সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি হয়েছে আরজেডির। দল প্রতিষ্ঠার পর কখনও আরজেডি পঞ্চাশের কম আসন পায়নি। ১৯৯৭ সাল থেকে তারাই বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্টি ছিল।
দলের এই বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে লালু প্রসাদ-রাবড়ি দেবীদের দল যেসব বিষয়কে অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে তার একটি হল দলের সাংস্কৃতিক ফ্রন্টের তৈরি নির্বাচনী গান। তেজস্বী যাদব দলের বৈঠকে বলেছেন, এত নিম্নমানের গান অতীতে কখনও আমাদের দলের প্রচারে ব্যবহার করা হয়নি। খারাপ ফলের পেছনে নিম্নমানের গানও একটি কারণ।
তেজস্বী বলেছেন, পার্টির সংস্কৃতি ফ্রন্ট গান-বাজনা দলের বক্তব্য সেভাবে তুলেই ধরতে পারেনি। শুধু তাই নয় বেশ কিছু গান ছিল রুচিহীন। বিজেপি লাগাতার সেগুলির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছে। বৈঠকে তেজস্বী স্বীকার করেছেন এই বিষয়ে তিনি প্রচার চলাকালীন নজর দিতে পারেননি।
রাজনৈতিক মহল বলছে, স্মরণকালের মধ্যে নির্বাচনের ভরাডুবির জন্য দলের সংস্কৃতি ফ্রন্টকে এইভাবে কাঠগড়ায় তোলার নজির প্রায় নেই বললেই চলে। সব দলই ভোটের সময় নতুন গান, স্লোগান ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে। আরজেডির শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের পর্যালোচনা রিপোর্টে বলেছে এবারের প্রচারে দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ছিল সংস্কৃতি ফ্রন্টের। সাধারণ মানুষের কাছে দলের বক্তব্য পৌঁছে দিতে এই ফ্রন্টের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু তারা সেটি পারেনি। বরং কিছু কিছু গান দলের বিরুদ্ধে গিয়েছে। মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।
বিহারের এই অভিজ্ঞতা থেকে এখনই শিক্ষা নিয়ে দলকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো বিহারে আরজেডির দৃষ্টান্ত টেনে বলেছেন সংস্কৃতি ফ্রন্টকে ঢেলে সাজতে হবে। তারা কোন কথা কীভাবে প্রচার করবে সে ব্যাপারে পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন। গান-বাজনা রুচিশীল হতে হবে। সেগুলিতে দলের রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট থাকা দরকার। বিজেপি সহ বিরোধীপক্ষ কীভাবে রাজ্যের ক্ষতি করছে সংস্কৃতি ফ্রন্টকে সেই ব্যাপারে ভাবনা-চিন্তা করে গান, স্লোগান ইত্যাদি এখন থেকেই তৈরি করতে হবে।
প্রসঙ্গত উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ এর এপ্রিল মাস নাগাদ পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। সমাজবাদী পার্টি এখন সে রাজ্যের শক্তিশালী বিরোধীদল। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে দলকে রাজ্যের ক্ষমতায় আনতে অখিলেশ এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন। রবিবার বিকালে তিনি বিনা নোটিসে লখনউয়ের পার্টি দফতরে যান। তখন অফিস বাড়ির বাইরে মিউজিক বাজছিল। অখিলেশ দপ্তরে ঢুকে প্রথমে ওই মিউজিক থামানোর নির্দেশ দেন। তারপর নেতাদের নিয়ে আলোচনায় বিহারের প্রসঙ্গ টেনে সবাইকে সতর্ক করেন।