কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের (Union Health Ministry) তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে গত এক মাসে ৩.২১ কোটি মানুষ স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করেছেন, যা এক নতুন বিশ্বরেকর্ড।

নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতায় তিন-তিনটি বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারত
শেষ আপডেট: 1 November 2025 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসঙ্গে তিন-তিনটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ( Guinness World Record) ভারতের ‘স্বাস্থ্য নারী, শক্তিশালী পরিবার অভিযান’ (Swasth Nari, Sashakt Parivar Abhiyaan)। দেশজুড়ে এই স্বাস্থ্যপ্রচার অভিযানটি মূলত মহিলাদের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের (Union Health Ministry) তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে গত এক মাসে ৩.২১ কোটি মানুষ স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করেছেন, যা এক নতুন বিশ্বরেকর্ড। একই সঙ্গে এক সপ্তাহে ৯.৯৪ লক্ষ মহিলা অনলাইনে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে অংশ নিয়েছেন এবং রাজ্যস্তরে ১.২৫ লক্ষ মানুষ অনলাইনে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নাম লিখিয়েছেন— এই দুই ক্ষেত্রেও গিনেস রেকর্ড গড়েছে ভারত।
দেশের প্রতিটি জেলায় এই অভিযান পৌঁছে গিয়েছে। আয়োজিত হয়েছে ১৯.৭ লক্ষ স্বাস্থ্য শিবির, যেখানে অংশ নিয়েছেন ১১ কোটিরও বেশি মানুষ। এই সময়কালে ১.৭৮ কোটি মানুষকে উচ্চ রক্তচাপের পরীক্ষা, ১.৭৩ কোটি ডায়াবিটিস পরীক্ষা এবং ৬৯.৫ লক্ষ মুখের ক্যানসার পরীক্ষা করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ৬২.৬ লক্ষ প্রসূতি পরীক্ষা, ১.৪৩ কোটি টিকা প্রয়োগ, ১.৫১ কোটি রক্তাল্পতা পরীক্ষা, ৮৫.৯ লক্ষ মহিলা যক্ষ্মা পরীক্ষা, ১০.২ লক্ষ সিকল সেল রোগ স্ক্রিনিং এবং ২.১৪ কোটি মানুষ পরামর্শ ও সুস্থতা শিবিরে অংশ নিয়েছেন।
অভিযান চলাকালীন ২.৬৮ লক্ষ নিক্ষয় মিত্র নিবন্ধিত হয়েছেন— তাঁরা হলেন সেই স্বেচ্ছাসেবীরা, যাঁরা যক্ষ্মা রোগীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
এই উদ্যোগে যুক্ত ছিল ২০টিরও বেশি মন্ত্রক ও দফতর, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান, মেডিক্যাল কলেজ এবং বেসরকারি সংস্থাও। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এই সাফল্যের প্রশংসা করে বলেছেন, “আমাদের মা-বোনরাই জাতির শক্তির মূলভিত্তি। মা যদি সুস্থ থাকেন, পরিবারও সুস্থ থাকে। এই অভিযান সেই আত্মত্যাগ ও ‘ভারত প্রথম’-এর চেতনার প্রতিফলন।”
‘পোশন মাস’-এর অংশ হিসেবে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত চলে এই উদ্যোগ। এতে পঞ্চায়েতের পাঁচ লক্ষ প্রতিনিধি, ১.১৪ কোটি ছাত্রছাত্রী, ৯৪ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আরও পাঁচ লক্ষ মানুষ যুক্ত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক বলেছে, এই তিনটি বিশ্বরেকর্ড শুধু গর্বের বিষয় নয়, বরং ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবংমানুষের অংশগ্রহণের এক নতুন মডেল তৈরি করেছে ভারত।