ভারত-চিন সীমান্তে গালওয়ান উপত্যকায় ২০২০ সালের সংঘর্ষের পর থেকেই প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO)-এর তত্ত্বাবধানে তৈরি হচ্ছে এই রুট, যা পুরনো রুটের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 July 2025 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখের (Ladakh) দৌলত বেগ ওল্ডি (ডিবিও) সীমান্তপথে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত। এক নতুন রাস্তার নির্মাণকাজ দ্রুত এগোচ্ছে। ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক তৈরি হয়ে গেলে পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) উপস্থিতি আরও সংগঠিত হবে।
সাসোমা-সাসের লা-সাসের ব্রাংসা-গ্যাপশান হয়ে ডিবিও পর্যন্ত এই নতুন সড়ক ২০২৬ সালের মধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর ফলে লেহ থেকে ডিবিও পর্যন্ত দূরত্ব ৭৯ কিলোমিটার কমে আসবে এবং দু’দিনের যাত্রার সময় নামবে মাত্র ১২ ঘণ্টায়।
ভারত-চিন সীমান্তে (LAC) গালওয়ান উপত্যকায় ২০২০ সালের সংঘর্ষের পর থেকেই প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO)-এর তত্ত্বাবধানে তৈরি হচ্ছে এই রুট, যা পুরনো রুটের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এই নতুন রাস্তাটি বর্তমান রুটের মতো সরাসরি এলএসি বরাবর নয়, ফলে চিনা নজরে পড়ার সম্ভাবনাও কম।
বর্তমানে দৌলত বেগ ওল্ডি এলাকায় ১৬ হাজার ৬১৪ ফুট উচ্চতায় একটি উন্নত ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড রয়েছে। এটি কারাকোরাম পাস, এলএসি এবং চিন অধিকৃত আকসাই চিনের কাছাকাছি। নতুন সড়কটি সাসোমা, নুব্রা উপত্যকা, ডেপসাং সমভূমি এবং সাসের ব্রাংসা অঞ্চলের সঙ্গে ডিবিও-কে যুক্ত করবে। প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, এই রাস্তায় ৭০ টন পর্যন্ত ওজন বহনকারী ভারী যান ও কামান চলাচল করতে পারবে, যা সেনার ক্ষমতাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই সাসের লা গিরিপথের নিচে ১৭ হাজার ৬৬০ ফুট উচ্চতায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ একটি টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল পেরিয়ে এই রাস্তা নির্মাণ প্রকৌশলগত দিক থেকেও এক অসামান্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্পটির প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি অংশ ২০২৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা। এই নতুন রুট তৈরি হলে সীমান্তে ভারতীয় সেনার কৌশলগত উপস্থিতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠবে, এমনটাই মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।