পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। অভিযোগ, রাজনীতি ও শিল্পক্ষেত্রের কিছু গোষ্ঠী দ্রুত অনুমোদনের জন্য চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু মানুষ সুযোগ নিয়ে বেআইনি খনিজ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 December 2025 18:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকে খোঁজ মিলেছে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ খনিজ ভান্ডার (India minerals), যেখানে প্রচুর মাত্রায় কেবল সোনা নয়, মিলেছে ব্যাটারি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় লিথিয়ামের চিহ্নও (lithium reserves India)। কিন্তু সবচেয়ে বড় বাধা হল, এই সব খনিজ জমা রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে, যেখানে আইন অনুযায়ী কোনও ধরনের গভীর খনন করা যায় না। ফলে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের এই ‘সোনার ভান্ডার’ (India’s Hidden Mineral Jackpot) এখনই কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
কর্নাটকের (Karnataka) খনি ও ভূতত্ত্ব দফতর জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ৬ লক্ষ হেক্টর এলাকা জুড়ে পরিচালিত বড়সড় রেকি অভিযানে ৬৫টি ব্লকে খনিজ থাকার সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া হল কপ্পাল জেলার অমরাপুর ব্লক। সেখানকার পৃষ্ঠের নমুনায় প্রতি টনে ১২–১৪ গ্রাম সোনা পাওয়া গেছে, যা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক বলে ধরা হয় এমন মাত্রার (২–৩ গ্রাম/টন) চার থেকে সাত গুণ বেশি। অর্থাৎ এই অঞ্চলে বড় সোনার খনি থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।
এদিকে রায়চুর জেলার অমরেশ্বর ব্লকে প্রথমবার পাওয়া গেছে লিথিয়ামযুক্ত শিলা (পেগমাটাইট)। দেশের মাত্র কয়েকটি জায়গায়, জম্মু-কাশ্মীর ও ছত্তীসগড়ে এই ধরনের লিথিয়ামের খোঁজ মিলেছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল কর্নাটকও (Karnataka Mine), যা ভবিষ্যতে ব্যাটারি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির শিল্পে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও খনন বন্ধ কেন?
সমস্ত খনিজ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পড়ে। তাই সেখানে গভীর খনন বা ড্রিলিং করতে হলে আগে প্রয়োজন স্টেজ-ওয়ান ফরেস্ট ক্লিয়ারেন্স। যদিও রাজ্য সরকার সুপারিশ দিতে পারে, তবুও কেন্দ্রের পরিবেশ মন্ত্রকের অনুমতি ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয় এবং সেই অনুমতি এখনও মেলেনি।
স্থানীয় বনবিভাগ জানিয়েছে, এই এলাকায় বন্যপ্রাণীরা বিচরণ করে। এটি ভূগর্ভস্থ জলের গুরুত্বপূর্ণ পুনর্ভরণ এলাকা অর্থাৎ এখানে বৃষ্টির জল বা অন্যান্য জলধারা মাটির মধ্য দিয়ে নীচে গিয়ে ভূগর্ভস্থ জলস্তরে মিশে জলস্তরকে পুনরায় পূর্ণ করে। সহজ কথায়, এটি সেই এলাকায় ভূগর্ভস্থ জল রিফিল করতে সাহায্য করে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলিও দাবি করেছে, বড়সড় খনন শুরু হলে পশ্চিমঘাট-সংলগ্ন ওই অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতি হবে। অনুমতি না থাকায় এখন ১০–২০ মিটারের বেশি ড্রিলিং, বড় নমুনা সংগ্রহ বা খনিজের সঠিক পরিমাণ- কিছুই জানা যাচ্ছে না।
এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। অভিযোগ, রাজনীতি ও শিল্পক্ষেত্রের কিছু গোষ্ঠী দ্রুত অনুমোদনের জন্য চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু মানুষ সুযোগ নিয়ে বেআইনি খনিজ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে। এই সব ঠেকাতে রাজ্য সরকার ওই এলাকায় সশস্ত্র বনরক্ষী ও CCTV বসিয়েছে।
এখন কী হতে পারে?
রাজ্য সরকার (Karnataka Govt) অনুমতি পেতে প্রস্তাব প্রস্তুত করছে। তবে অনুমতি মিললেও খননকাজ শুরু হতে পারে ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে। বাণিজ্যিক খনি চালু হওয়ার জন্য আরও ৫-৮ বছর সময় লাগতে পারে।
তার আগে পর্যন্ত সোনা ও লিথিয়ামের বিপুল ভান্ডার মাটির নীচেই আটকে থাকবে। অর্থাৎ কর্নাটকের এই 'মিনারেল জ্যাকপট' (India’s Hidden Mineral Jackpot) এখনই ব্যবহার করা যাবে না।