হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি চার-ধাপের রকেট ‘বিক্রম–I’-এর নাম নেওয়া হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাই-এর নামে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 27 November 2025 15:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তিতে (Space) আরও এক বড় মাইলফলক। বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদে (Hyderabad) স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের (Skyroot Aerospace) নতুন ‘ইনফিনিটি ক্যাম্পাস’ (Infinity Campus) উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে এল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম বেসরকারি অরবিটাল-শ্রেণির রকেট ‘বিক্রম–I’ (Vikram-I)।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে ভারত মহাকাশ গবেষণায় যে অগ্রগতি করেছে, তা বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশই পারে। বেসরকারি সংস্থার জন্য সুযোগ খুলে দেওয়ায় মহাকাশ প্রযুক্তিতে এখন আরও বেশি উদ্ভাবন দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কী এই বিক্রম–I?
হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের (Skyroot Aerospace) তৈরি চার-ধাপের রকেট ‘বিক্রম–I’-এর (Vikram-I) নাম দেওয়া হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাই-এর (Vikram Sarabhai) নামে। প্রায় ২০ মিটার লম্বা ও ১.৭ মিটার ব্যাসের এই রকেটটি মূলত ছোট স্যাটেলাইট দ্রুত ও কম খরচে বিভিন্ন কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে।
রকেটের কার্বন-কম্পোজিট কাঠামো একদিকে ওজন হালকা করেছে, অন্যদিকে বাড়িয়েছে শক্তি ও স্থায়িত্ব। সংস্থার দাবি, পুরো রকেটটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমবেত করে যে কোনও লঞ্চসাইট (Launchsite) থেকে উৎক্ষেপণ সম্ভব।
প্রথম তিনটি ধাপে কঠিন জ্বালানির মোটর এবং চূড়ান্ত ধাপে হাইপারগলিক তরল জ্বালানির ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা কক্ষপথে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, রকেটটিতে ব্যবহৃত ৩ডি-প্রিন্টেড ইঞ্জিনগুলি আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ হালকা এবং উৎপাদন-সময়ে ৮০ শতাংশ সাশ্রয় করে।
ক্ষমতা কত?
বিক্রম–I (Vikram-I) সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোগ্রাম পে-লোড নিম্ন কক্ষপথে এবং ২৬০ কিলোগ্রাম সান-সিঙ্ক্রোনাস অরবিটে তুলতে সক্ষম। নির্দিষ্ট মিশন অনুযায়ী এই ক্ষমতা বদলে যেতে পারে। সে কারণে একাধিক স্যাটেলাইট একসঙ্গে বহন করা বা আলাদা কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব।
কবে আকাশে উঠবে বিক্রম–I?
সংস্থার লক্ষ্য, ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই প্রথম মিশন সম্পন্ন করা। ছোট স্যাটেলাইটের বাজার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে, আর ভারতীয় মহাকাশ শিল্প ২০৩০ সালে ৭৭ বিলিয়ন ডলারের আকারে পৌঁছবে বলে অনুমান। সেই বাজারে নিজেদের জায়গা পাকা করতেই স্কাইরুটের এই নতুন উদ্যোগ।