গত ২১ নভেম্বর লন্ডন থেকে জাপান যাওয়ার পথে তিন ঘণ্টার ট্রানজিটে ছিলেন থোংডক। সেই সময়ই নিরাপত্তা চেকিংয়ে তাঁকে আলাদা করে দাঁড় করানো হয়। পরে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর পাসপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয় কারণ অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ!

প্রীমা ওয়াংজম থোংডক
শেষ আপডেট: 26 November 2025 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাংহাই পুডং বিমানবন্দরে (Shanghai Pudong Airport) লাগাতার ১৮ ঘণ্টা আটকে রেখে অপমান, উপহাস আর হয়রানি - এক ভারতীয় নাগরিকের (Indian Citizen) অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রবল প্রতিবাদ জানাল দিল্লি (New Delhi)। প্রীমা ওয়াংজম থোংডক (Prema Wangjom Thongdok) নামের ওই তরুণীকে চিনা ইমিগ্রেশন (Chinese Immigration) কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট ‘অকার্যকর’, কারণ নথিতে জন্মস্থান হিসেবে লেখা আছে অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh)। দিল্লির কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া - এই যুক্তি হাস্যকর কারণ, অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
গত ২১ নভেম্বর লন্ডন থেকে জাপান (Japan) যাওয়ার পথে তিন ঘণ্টার ট্রানজিটে ছিলেন থোংডক। সেই সময়ই নিরাপত্তা চেকিংয়ে তাঁকে আলাদা করে দাঁড় করানো হয়। পরে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর পাসপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয় কারণ অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ (Arunachal Pradesh is Chinese Territory)! এই ঘটনার কথাই সামাজিক মাধ্যমে লেখেন খোদ তরুণী।
থোংডকের অভিযোগ, ইমিগ্রেশন কর্মীরা তাঁকে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করেছে, বলেছে - আপনি ভারতীয় নন, চিনা; আপনার চিনের পাসপোর্ট (Chinese Passport) করা উচিত। প্রশ্ন তুলতেই তাঁদের আচরণ আরও ব্যঙ্গাত্মক হয় বলে অভিযোগ। তিনি জানান, এয়ারলাইন কর্মীদের ব্যবহারের ধরনও একই রকম ছিল।
পেশায় আর্থিক পরামর্শদাতা থোংডক গত বছর একই পথে সাংহাই হয়ে যাতায়াত করেছিলেন, কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবারে অভিযোগ, চিনা কর্তৃপক্ষ তাঁর পাসপোর্ট (Passport) কেড়ে নেয়, খাবার দেননি (No Food), জাপানে যাওয়ার বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বোর্ডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘসময় আটক থাকার পর তিনি পরিচিতদের মাধ্যমে আমেরিকায় (সেখানেই থাকেন তরুণী) খবর পাঠান এবং সাংহাইয়ে ভারতীয় কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় কর্মকর্তারা দ্রুত বিমানবন্দরে পৌঁছে তাঁকে সাহায্য করেন, খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টার লড়াইয়ের পরে তিনি দেশ ছাড়তে সক্ষম হন। সরাসরি না ফেরাতে পেরে থাইল্যান্ড হয়ে তাঁকে উড়ে যেতে হয়।
তরুণীর এও অভিযোগ, তাঁকে বলা হয়েছিল - ভারত বা আমেরিকা, যে কোনও এক দেশে ফিরে যেতে হবে তাঁকে, জাপান যাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে এও জানান, চিনে গুগল বন্ধ থাকায় তিনি কোনও তথ্য খুঁজে বের করতে পারেননি, শুধু চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের টিকিটেই তাঁকে পুনরায় যাত্রা করতে বাধ্য করা হয়।
এই ঘটনায় ভারতের স্পষ্ট বার্তা - অরুণাচল প্রদেশ ভারতেরই অংশ এবং এখানকার বাসিন্দারা ভারতীয় পাসপোর্টে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের যে কোনও দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। আরও জানানো হয়, চিনের এই আচরণ আন্তর্জাতিক বেসামরিক উড়ান নীতি লঙ্ঘন করে এবং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়াসে অনাবশ্যক বাধা তৈরি করছে।