এটি Anti-Submarine Warfare Shallow Water Craft (ASW-SWC) গোত্রের দ্বিতীয় সংস্করণ।

যুদ্ধজাহাজটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়েছে কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের (GRSE) কারখানায়।
শেষ আপডেট: 6 October 2025 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৌবাহিনীর ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ‘এন্ড্রোথ’ (Androth) বিশাখাপত্তনমে জলে ভাসল সোমবার। এটি Anti-Submarine Warfare Shallow Water Craft (ASW-SWC) গোত্রের দ্বিতীয় সংস্করণ। এই যুদ্ধজাহাজটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়েছে কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের (GRSE) কারখানায়। পূর্বতট নৌ কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ, ভাইস অ্যাডমিরাল রাজেশ পেন্ধরকর এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই যুদ্ধজাহাজকে বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেন।
আদ্যন্ত দেশীয় প্রযুক্তি ও দেশে তৈরি স্বল্প গভীরতার এই যুদ্ধজাহাজের দক্ষতা তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। ‘এন্ড্রোথ’এর কাজে নামায় ভারতীয় নৌবাহিনী আরও একদফা শক্তিশালী হল। বিশেষত এর ৮০ শতাংশের বেশি কাঁচামাল ও সামগ্রী সম্পূর্ণ দেশে তৈরি।
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যেই ‘এন্ড্রোথ’ সোমবার কাজে নেমে পড়ে। চিন-বাংলাদেশের যৌথ শ্যেন নজরের পরিপ্রেক্ষিতে নৌবাহিনী যথেষ্ট শক্তিশালী এই যুদ্ধজাহাজ হাতে পেয়ে। সাধারণত দেশীয় অস্ত্র ও জাহাজ, বিমানের নাম হয় রামায়ণ-মহাভারতের কোনও বৈদিক যুগীয় অস্ত্র বা দেশের কোনও নাম ধরে। তাহলে নয়া এই যুদ্ধজাহাজের এরকম নাম কেন, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আসলে ‘এন্ড্রোথ’ হল লাক্ষাদ্বীপের অন্তর্গত একটি বিখ্যাত দ্বীপ। লাক্ষাদ্বীপের অন্যান্য দ্বীপগুলির মধ্যে সবথেকে বড় ‘এন্ড্রোথ’। শুধু তাই নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও এর তাৎপর্য বিশাল। এখানে রয়েছে গভীর নারকেল গাছের জঙ্গল। নীল নির্জন সৈকত, সাফসুতরো বেলাভূমি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকা নারকেল চাষ ও সমুদ্রে মাছ ধরা। ‘এন্ড্রোথ’এ রয়েছে জুমাত মসজিদ, যা মৌলানা উবেইদুল্লাহ-র দরগা। প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপত্যের একটি ধ্বংসাবশেষ।