সুখোই সু-৩০ এমকেআই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান। এটি রাশিয়ার তৈরি সুখোই সিরিজের একটি উন্নত সংস্করণ, যা ভারতে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) তৈরি করে।

নিখোঁজ যুদ্ধবিমান Su-30 MKI
শেষ আপডেট: 5 March 2026 22:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের আকাশে প্রশিক্ষণের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) একটি সুখোই সু-৩০ এমকেআই (Sukhoi Su-30 MKI) যুদ্ধবিমানের সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাডার থেকে বিমানটি উধাও হয়ে যাওয়ার পরই বায়ুসেনা তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
বায়ুসেনা সূত্রে জানা গেছে, বিমানটি অসমের জোরহাট ঘাঁটি থেকে উড়েছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪২ মিনিটে শেষবারের মতো বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এরপরই রাডার থেকে সেটির অবস্থান আর ধরা যায়নি (Assam fighter jet missing)।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, করবি আংলং জেলার আকাশে সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে এই ঘটনা ঘটে (Air Force training incident)। কয়েকটি স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে, এলাকায় একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে এবং বিমানটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে এখনও ভারতীয় বায়ুসেনা বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
এদিকে বিমানের পাইলটেরও এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি (IAF rescue operation)। তাকে খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
সুখোই সু-৩০ এমকেআই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান। এটি রাশিয়ার তৈরি সুখোই সিরিজের একটি উন্নত সংস্করণ, যা ভারতে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) তৈরি করে। দুই আসনের এই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বহন করার ক্ষমতাও রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে প্রায় ২৭০টি সুখোই সু-৩০ এমকেআই রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের জুন মাসে মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলাতেও একটি সুখোই সু-৩০ এমকেআই বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। তখন প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমানটি ভেঙে পড়লেও পাইলট ও কো-পাইলট দুজনেই নিরাপদে ইজেক্ট করতে পেরেছিলেন। এখন অসমে নিখোঁজ এই যুদ্ধবিমানকে খুঁজে বের করতে বায়ুসেনা ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে।
মাসের শুরুতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবেসে (Airbase) তেজস এলসিএ (Tejas Light Combat Aircraft) ভেঙে পড়ে। এই ঘটনার পর আপাতত ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে থাকা প্রায় ৩০টি এক আসনের তেজসকে উড়ান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বিস্তারিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলিকে ব্যবহার করা হবে না বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে অনবোর্ড ব্যবস্থার কোনও অংশে ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে।
২০১৫ সালে বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির পর এটি তেজস ঘিরে তৃতীয় বড় ঘটনা। ২০২৪ সালের মার্চে জয়সালমেরের কাছে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুবাইয়ের এক আকাশ প্রদর্শনীতে আর এক ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু হয়।
তেজস নির্মাণ করে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড। এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই বহুমুখী যুদ্ধবিমান উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আকাশসীমায় প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নজরদারি ও আক্রমণ অভিযানে সক্ষম। পরপর যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।