সেনার তরফে জানানো হয়, “শভনের মতো ‘নীরব নায়ক’-রাই এই দেশের গর্ব। ওদের সম্মান জানানো আমাদের কর্তব্য।”

শেষ আপডেট: 21 July 2025 00:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশপ্রেমের কোনও বয়স হয় না - সেটা আরও একবার প্রমাণ করে দিল ১০ বছরের শভন সিং। সাহস আর নিষ্ঠায় মুগ্ধ হয়ে তার ভবিষ্যতের পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব তুলে নিল ভারতীয় সেনা।
ঘটনাস্থল, পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার মমডট এলাকার তরাওয়ালি গ্রাম। মে মাসের ৭ তারিখ, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় সেনা যখন পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানছিল, তখন সীমান্তের কাছে গোলাগুলির মধ্যে দিয়েই সেনাদের জন্য জল, চা, দুধ, লস্যি পৌঁছে দিতে এগিয়ে গিয়েছিল শভন। কারও জোরাজুরিতে নয়, নিজের ইচ্ছেতেই।
সেনার গোল্ডেন অ্যারো ডিভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শভনের এই নিঃস্বার্থ সাহসিকতাকে সম্মান জানাতেই তাঁর সম্পূর্ণ শিক্ষাজীবনের খরচ বহন করবে সেনাবাহিনী।
শনিবার ফিরোজপুর ক্যান্টনমেন্টে একটি অনুষ্ঠানে পশ্চিম কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কুমার কাটিয়ার ছোট্ট শভনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানান।
সেনার তরফে জানানো হয়, “শভনের মতো ‘নীরব নায়ক’-রাই এই দেশের গর্ব। ওদের সম্মান জানানো আমাদের কর্তব্য।”
শভনের বাবাও ছেলের কাজে গর্বিত। তাঁর কথায়, “এই কাজ ও নিজে থেকেই করেছে। কেউ বলেনি। সেনারাও ওকে খুব ভালোবেসেছে।”
ক্লাস ফোরের ছাত্র শভনের স্বপ্নও স্পষ্ট, “আমি বড় হয়ে সেনায় যোগ দিতে চাই। দেশের সেবা করতে চাই,” - মে মাসে এমনই জানিয়েছিল ছোট্ট ওই দেশভক্ত।
উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬টি তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ার প্রত্যাঘাত। ৭ মে ভোররাতে ভারতীয় সেনা এবং বায়ুসেনা যৌথভাবে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে বিধ্বংসী হামলা চালায়। নিশানায় ছিল জইশ-ই-মহম্মদের বাহাওয়ালপুর ঘাঁটি এবং লস্কর-এ-তইবার মুরিদকে বেস।
ভারতের পাল্টা হামলার পর, টানা তিনদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় শেলিং চালায় পাকিস্তান সেনা।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সেনাদের পাশে দাঁড়িয়ে নজির গড়েছিল দশ বছরের শভন। ভারতীয় সেনার এই স্বীকৃতি তাই শুধুই পুরস্কার নয়, এক পরম অনুপ্রেরণা।