বিমানসংস্থাগুলির এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে বাড়তি পরিচালন খরচ - বিশেষ করে জ্বালানি ও বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত ব্যয়। পাশাপাশি, পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে যাত্রী চাহিদা কমে যেতে পারে, এই আশঙ্কাও রয়েছে।

ভারতীয় বিমানসংস্থার সামার শিডিউলে চাপ বাড়ছে
শেষ আপডেট: 27 March 2026 07:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি ভারতের বিমান চলাচল ক্ষেত্রেও (West Asia crisis aviation sector India)। চলতি বছরের গ্রীষ্মকালীন সূচিতে (সামার শিডিউল) ভারতীয় বিমানসংস্থাগুলি (Indian airlines) সাপ্তাহিক প্রায় ৩,০০০টি কম ফ্লাইট চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুদ্ধের আবহে গত বছরের তুলনায় এই কাটছাঁট উল্লেখযোগ্য বলেই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাধিক সূত্র (Indian airlines flight cuts summer schedule)।
যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
গত বছরের গ্রীষ্মসূচিতে ভারতীয় বিমানসংস্থাগুলি মোট ২৫,৬১০টি সাপ্তাহিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল, যা ২০২৪ সালের ২৪,২৭৫টির তুলনায় বেশি ছিল। কিন্তু এ বছরের ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন সূচিতে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়াতে পারে প্রায় ২২,৬০০-তে। এই সূচি কার্যকর থাকবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
একজন শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, “গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বার প্রায় ১২ শতাংশ কম ফ্লাইট চলবে।”
খরচ বৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তায় কাটছাঁট
বিমানসংস্থাগুলির এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে বাড়তি পরিচালন খরচ - বিশেষ করে জ্বালানি ও বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত ব্যয়। পাশাপাশি, পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে যাত্রী চাহিদা কমে যেতে পারে, এই আশঙ্কাও রয়েছে।
দেশের বৃহত্তম বিমানসংস্থা ইন্ডিগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এপ্রিল মাসে প্রতিদিন প্রায় ২,০০০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট দিয়ে গ্রীষ্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা করছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শীতকালীন সূচির মতোই পরিকল্পনা থাকলেও, আরব দুনিয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী তা বদলাতে পারে।
সংস্থার তরফে আরও জানানো হয়েছে, জ্বালানি ও বৈদেশিক মুদ্রার খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই খরচের চাপ প্রবল, তার ওপর নতুন করে এই বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ভাড়া বাড়ার ইঙ্গিত, প্রভাব পড়তে পারে চাহিদায়
এই বাড়তি খরচ সামলাতে কিছু ক্ষেত্রে ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থা। তবে শুধু সেটাই যথেষ্ট নয়, অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির প্রয়োজন হতে পারে, যা যাত্রী চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এক মুখপাত্র জানান, “পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক - দুই ক্ষেত্রেই আমরা নজর রাখছি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্লাইটের সংখ্যা সামঞ্জস্য করা হবে।”
শিল্প মহলের মতে, এপ্রিল থেকে বিমানভাড়া আরও বাড়তে পারে। যদি এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম বাড়তেই থাকে, তবে বিমানসংস্থাগুলি কিছু উড়ান বাতিল করা, একত্র করা বা চূড়ান্ত পরিস্থিতিতে কিছু বিমান সাময়িকভাবে পরিষেবা থেকে সরিয়েও রাখতে পারে।
একজন শিল্পকর্তার কথায়, “বিনোদনমূলক ভ্রমণের যাত্রীরাও এই পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে পারেন। যাত্রীসংখ্যা কম হলে ফ্লাইট চালানোর বদলে বাতিল বা একত্র করা বেশি যুক্তিযুক্ত।”
ভাড়া নিয়ন্ত্রণ তুলে নিল সরকার, তবে সতর্কবার্তা
এদিকে, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক সম্প্রতি ডিসেম্বর থেকে চালু থাকা অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়ার উপর অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছে। তাদের মতে, যে পরিস্থিতির কারণে এই নিয়ন্ত্রণ চালু করা হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল।
তবে একইসঙ্গে বিমানসংস্থাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে, যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তবে আবারও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, বাড়তি খরচ এবং সম্ভাব্য চাহিদা হ্রাস - এই তিনের চাপে ভারতীয় বিমান পরিবহণ ক্ষেত্র এক অনিশ্চিত সময়ের মুখে দাঁড়িয়ে।