Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

একে পাকিস্তানে রক্ষে নেই, ইরান যুদ্ধ দোসর, জোড়া ধাক্কা ভারতীয় বিমানসংস্থায়, বড় সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো

তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে ভারত থেকে পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাগামী ১,২৩০টি নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারেনি এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো। এই পরিস্থিতির মূল কারণ— এক, পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষিদ্ধ এবং দুই, ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ঝুঁকি। ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য এই অঞ্চল ইউরোপ ও আমেরিকার রুটে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করিডর।

একে পাকিস্তানে রক্ষে নেই, ইরান যুদ্ধ দোসর, জোড়া ধাক্কা ভারতীয় বিমানসংস্থায়, বড় সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো

শেষ আপডেট: 11 March 2026 12:21

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে (Iran War) ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির সমস্যাকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিল। পাকিস্তান গত বছর থেকেই ভারতীয় বিমানগুলিকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। তার উপর এবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটে বড়সড় ধাক্কা খাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) ও ইন্ডিগোর (Indigo) মতো সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলির জন্য কার্যত ‘জোড়া ধাক্কা’।


তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে ভারত থেকে পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাগামী ১,২৩০টি নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারেনি এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো।এই পরিস্থিতির মূল কারণ— এক, পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষিদ্ধ এবং দুই, ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ঝুঁকি। ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য এই অঞ্চল ইউরোপ ও আমেরিকার রুটে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করিডর।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এড়িয়ে এখন অনেক বিমানকে আফ্রিকার দিকে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে যাত্রার সময় দু’ ঘণ্টা পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে।দীর্ঘ রুট মানেই বেশি জ্বালানি খরচ, যা বিমান সংস্থাগুলির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইন্ডিগোর ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল। ইউরোপে উড়ানের জন্য তারা নরস আটলান্টিক এয়ারওয়েজ থেকে লিজ নেওয়া বোয়িং বিমান ব্যবহার করে। এই বিমানগুলি নরওয়েতে রেজিস্টার্ড হওয়ায় ইউরোপীয় বিমান নিরাপত্তা সংস্থার নির্দেশ মানতে হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ইরান, ইরাক, ইজরায়েল, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরবের আকাশপথ এড়িয়ে চলতে হচ্ছে। ফলে দিল্লি থেকে ম্যানচেস্টারগামী একটি ইন্ডিগো বিমানকে ১৩ ঘণ্টা আকাশে থাকার পর দিল্লিতেই ফিরে আসতে হয়। কারণ আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া শেষ মুহূর্তে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। 

এয়ার ইন্ডিয়াও বাধ্য হচ্ছে বিকল্প রুট নিতে। উদাহরণস্বরূপ, দিল্লি থেকে নিউ ইয়র্কগামী একটি এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইটকে রোমে থামতে হয়েছে, ফলে পুরো যাত্রা সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ ঘণ্টা। ইরান যুদ্ধের আগে একই রুটে ইরাক ও তুরস্কের উপর দিয়ে উড়ে ১৭ ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির উপর বড় আর্থিক চাপ পড়বে। একটি আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র সাত দিনের ফ্লাইট বাতিলই বিমান সংস্থাগুলির বার্ষিক কর-পূর্ব মুনাফার প্রায় ১.২ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। এর আগে পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে এয়ার ইন্ডিয়া বছরে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করেছিল।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিমান সংস্থাগুলির খরচ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘ রুটে উড়লে জ্বালানি খরচ বাড়ে, আর একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বাড়ছে। ফলে ভারতীয় বিমান শিল্প এখন এক জটিল পরিস্থিতির মুখে—একদিকে যুদ্ধের প্রভাব, অন্যদিকে আকাশপথের সীমাবদ্ধতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক রুটে ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।


```