ভারতের শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলির সংগঠন ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কিনজারাপু রাম মোহন নাইডুর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আবেদন জানিয়েছে।

নতুন সঙ্কটে ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্র
শেষ আপডেট: 21 March 2026 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার চলমান সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ না থাকায় নতুন সঙ্কটে পড়েছে ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্র। জ্বালানির লাগামছাড়া দাম (Indian airlines fuel crisis), আন্তর্জাতিক অপারেশনে বাধা (Dubai airport restrictions airlines) - সব মিলিয়ে ভয়াবহ জটিলতার মুখে দাঁড়িয়ে দেশের বড় এয়ারলাইন্সগুলি (aviation crisis India Middle East)। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছে তারা (Indian Airlines to Seek Government Lifeline)।
ভারতের শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলির সংগঠন ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (Federation of Indian Airlines) এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কিনজারাপু রাম মোহন নাইডুর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আবেদন জানিয়েছে। এই সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) ইন্ডিগো, (IndiGo) এবং স্পাইসজেট (SpiceJet)-এর মতো বড় বড় এয়ারলাইন্স।
জ্বালানির দামে অস্থিরতা, বাড়ছে চাপ
এফআইএ-র ডিরেক্টর উজ্জ্বল দে একটি চিঠিতে জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম বেড়ে গিয়েছে। এর মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতা।
এই জ্বালানি সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে আরব দুনিয়ায় সংঘাতের জেরে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পদক্ষেপ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
দুবাইয়ে অপারেশনাল বাধা
জ্বালানির সমস্যার পাশাপাশি বড় ধাক্কা এসেছে অপারেশনাল ক্ষেত্রেও। এফআইএ জানিয়েছে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DXB) এবং আল মাকতৌম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DWC)-এ বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলির অবতরণের অনুমতি স্থগিত রাখা হয়েছে।
এর ফলে ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলির নেটওয়ার্কে বড় প্রভাব পড়ছে। সংস্থার মতে, এই পরিস্থিতি “ক্যাসকেডিং নেটওয়ার্ক ইমপ্যাক্ট” তৈরি করতে পারে, যার ফলে যাত্রীদের ব্যাপক অসুবিধা এবং সংস্থাগুলির উপর গুরুতর আর্থিক চাপ তৈরি হবে।
নীতিগত টানাপড়েনও বাড়ছে
এই সঙ্কটের মধ্যেই বিমান সংস্থা ও সরকারের মধ্যে টানাপড়েনও সামনে এসেছে। একই সংগঠনের সদস্য এয়ারলাইন্সগুলি বর্তমানে একটি সরকারি নির্দেশের বিরোধিতা করছে।
এই নির্দেশ অনুযায়ী, এয়ারলাইন্সগুলিকে তাদের মোট আসনের ৬০ শতাংশ যাত্রীদের বিনামূল্যে সিট নির্বাচন করার সুযোগ দিতে হবে।
এয়ারলাইন্সগুলির দাবি, এই নিয়ম কার্যকর হলে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘অ্যানসিলারি রেভিনিউ’ বা অতিরিক্ত আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদের বাধ্য হয়ে টিকিটের বেস ভাড়া বাড়াতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের উপরই বাড়তি চাপ ফেলবে।
বিমানের জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া, আকাশা এয়ারের মতো বিমান সংস্থা টিকিটে নতুন করে 'ফুয়েল চার্জ' বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাড়ছে চাপ, দ্রুত সমাধান প্রয়োজন
এফআইএ স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব এতটাই বেশি যে দ্রুত আলোচনায় বসা জরুরি। আরব দুনিয়ায় সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক অপারেশনে বাধা - সব মিলিয়ে ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্র এখন এক কঠিন সময়ের মুখোমুখি।
সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হতে পারে বলেই মনে করছে শিল্পমহল।