কেন্দ্রের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানান, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চুক্তির নানা সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হওয়ার পরেই ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক সইসাবুদ সম্পন্ন হবে।

শেষ আপডেট: 16 March 2026 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Deal) নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়নি। নতুন শুল্ক কাঠামো বা ট্যারিফ আর্কিটেকচার নির্ধারিত (India US Tariff Negotiations) হলেই দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সই করা হবে বলে সোমবার জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন্দ্রের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানান, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চুক্তির নানা সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। “এই মুহূর্তে আমরা আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি,” বলেন আগরওয়াল। তাঁর কথায়, নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হওয়ার পরেই ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক সইসাবুদ সম্পন্ন হবে।
রফতানিতে সামান্য পতন, আমদানিতে বড় উত্থান
সরকারের এই মন্তব্য সামনে আসে দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান প্রকাশের পর। তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের পণ্য রফতানি সামান্য কমেছে। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রফতানি দাঁড়িয়েছে ৩৬.৬১ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৮১ শতাংশ কম।
অন্যদিকে আমদানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় উত্থান। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আমদানি বেড়ে হয়েছে ৬৩.৭১ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ৫১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরে ২৪.১১ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে আমদানিতে।
এর ফলে ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭.১ বিলিয়ন ডলার।
যদিও ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানিতে সামান্য পতন দেখা গেছে, তবু সামগ্রিকভাবে ভারতের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে বলেই দাবি সরকারের। বাণিজ্য সচিবের মতে, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের রফতানি মোটের উপর স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ভারতের মোট রফতানি ১.৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০২.৯৩ বিলিয়ন ডলার।
একই সময়ে আমদানি বেড়ে হয়েছে ৭১৩.৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৮.৫৩ শতাংশ বেশি। সরকারের মতে, এর পিছনে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিদেশ থেকে পণ্যের আমদানি বাড়া।
আগামী কয়েক সপ্তাহে রফতানিতে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বাণিজ্য সচিব। বিশেষ করে মার্চ মাসে গতি কিছুটা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ পশ্চিম এশিয়ায় চলা সামরিক উত্তেজনা, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বিঘ্ন ঘটছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতা
ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ে। এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে।
বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। সেখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় কার্গো চলাচল এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়ছে। ফলে ভারতের রফতানিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে সরকার।