সইয়ের আগেই বদলে গেল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির খসড়ার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বদল কি ভারতের পক্ষেই লাভজনক, নাকি লুকিয়ে আছে নতুন ঝুঁকি?

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি
শেষ আপডেট: 11 February 2026 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-আমেরিকা (India-US Trade Deal) বাণিজ্য চুক্তি সই হওয়ার আগেই চুপচাপ পাল্টে গেল চুক্তিপত্রের একাধিক শব্দ ও শর্ত। হোয়াইট হাউসের (White House) প্রকাশিত নতুন রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, আগের খসড়ার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ বাদ বা বদল করা হয়েছে। বিশেষত কৃষিজ পণ্য, ডাল (Pulses) ও ডিজিটাল পরিষেবা কর (Digital Services Tax) নিয়ে আমেরিকার সংশোধন ভারতীয় স্বার্থে স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ নয়, এখন ভারত শুধু ‘কিনতে ইচ্ছুক’
মূল খসড়ায় লেখা ছিল, ভারত আমেরিকার থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য কিনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Committed)। সংশোধিত নথিতে সেই শব্দ বদলে হয়েছে কিনতে ইচ্ছুক (Intends To Buy)। অর্থাৎ ভারত আর বাধ্য নয়, বরং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় থাকছে।
শুধু তাই নয়, আগের খসড়ায় কৃষিজ পণ্য—বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ডাল—তালিকাভুক্ত ছিল মার্কিন নিঃশুল্ক রফতানির মধ্যে। নতুন সংস্করণে সেই ডালের উল্লেখ আর নেই। এর ফলে ভারত ডালের উপর নিজের মতো করেই শুল্ক আরোপ করতে পারবে।
এই পরিবর্তন কৃষিক্ষেতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ডাল উৎপাদক ও ভোক্তা হওয়ায় আমেরিকার ডাল আমদানি বাড়লে সরাসরি চাপে পড়তেন দেশি চাষিরা।
কৃষিজ পণ্য নিয়ে চাপ কমাল আমেরিকা
হোয়াইট হাউসের আগের নথিতে বলা হয়েছিল, ভারত ডিডিজি (DDGs), রেড সরগাম (Red Sorghum), ট্রি নাটস (Tree Nuts), ফলমূল, ডাল (Pulses), সয়াবিন তেল (Soybean Oil), ওয়াইন ও স্পিরিটস (Wine & Spirits)-সহ একাধিক কৃষিজ পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে দেবে।
নতুন সংস্করণে ডালকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে। ‘Agri Goods’ নিয়েও আগের মতো কঠোর ভাষা রাখা হয়নি।
বাণিজ্য মহলের মতে, এটা ভারতের দৃঢ় অবস্থানের ফল। ডালের মতো স্পর্শকাতর পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আপস করতে নারাজ ছিল নয়াদিল্লি।
ডিজিটাল পরিষেবা কর নিয়েও বদল
আগের রিপোর্টে দাবি ছিল, ভারত ডিজিটাল পরিষেবা কর তুলে দেবে। নতুন সংশোধনে সেই দাবি উধাও। বরং লেখা হয়েছে, দুটি দেশ মিলে বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ দূর করতে শক্তিশালী ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা (Digital Trade Rules) তৈরিতে আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাজনৈতিক চাপেই কি বদল?
এই পরিবর্তন প্রকাশের একদিন আগেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge) অভিযোগ করেছিলেন, মোদী সরকার কৃষক, পশুপালক, টেক্সটাইল শিল্পকে সমস্যায় ফেলছে এবং ভারতের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ডাল ও জিএম ফিড কেন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পরের দিনই হোয়াইট হাউস নথিতে পরিবর্তন, আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে।
কেন্দ্রের আশ্বাস: কৃষকরা সুরক্ষিত
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীয়ূষ গয়াল (Piyush Goyal) আগেই জানিয়েছিলেন, সংবেদনশীল কৃষিপণ্যে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। দেশের কৃষক, শিল্পী, তাঁতিদের স্বার্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। নতুন নথির সংশোধন সেই দাবিকেই আরও জোরালো করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।