Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

৪-৫ দিনের মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির যৌথ বিবৃতি, শুল্ক নামবে ৫০% থেকে ১৮%: পীযূষ গোয়েল

গোয়েল জানান, মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত আইনি চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

৪-৫ দিনের মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির যৌথ বিবৃতি, শুল্ক নামবে ৫০% থেকে ১৮%: পীযূষ গোয়েল

ফাইল ছবি

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 6 February 2026 07:27

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও আমেরিকার বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Deal) নিয়ে এবার সময়সীমা বেঁধে দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal)। তাঁর কথায়, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি জারি করতে পারে, যেখানে চুক্তির মূল কাঠামো স্পষ্ট থাকবে (Piyush Goyal joint statement BTA)। সেই যৌথ বিবৃতির ভিত্তিতেই মার্কিন প্রশাসন দু’দিনের মধ্যে একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডার (EO) জারি করতে পারে, যাতে ভারতীয় পণ্যের ওপর বর্তমান ৫০% শুল্ক কমে ১৮%-এ নেমে (Tariff Cut) আসে।

সোমবার যে 'হাই প্রোফাইল ট্রেড ডিলে'র কথা প্রথম ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), প্রায় এক বছরের দীর্ঘ আলোচনার পর সেটিই এখন শেষ পর্বে। দিল্লিতে গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (GCC) আধিকারিকদের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের পর পীযূষ গোয়েল এবং বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়াল এই অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরেন।

গোয়েল জানান, মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত আইনি চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল (India US trade deal tariff cut)।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গোয়েল বলেন, “দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুব ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (BTA) প্রথম ধাপ প্রায় প্রস্তুত। আশা করছি, চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই ভারত ও আমেরিকা যৌথ বিবৃতিতে সই করবে। সেই বিবৃতির ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, এই যৌথ বিবৃতি জারি হলে আমেরিকা ভারতের জন্য আরোপিত ২৫% ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ এবং রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেল কেনার কারণে আরোপিত ২৫% ‘পেনাল লেভি’ - দুটিই কমিয়ে মোট ৫০% থেকে ১৮%-এ নামাতে পারে। এরপর একটি আনুষ্ঠানিক খসড়া আইনি চুক্তি তৈরি হবে, যা মার্চের মাঝামাঝি দিল্লি ও ওয়াশিংটনে সই হতে পারে।

গোয়েলের কথায়, যৌথ বিবৃতির দু’দিনের মধ্যেই মার্কিন EO জারি হওয়ার সম্ভাবনা। “সব কিছু খুব দ্রুত হয়েছে। গতি-ই আমাদের ইউএসপি,” মন্তব্য তাঁর।

এই শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে অবিলম্বে লাভবান হবে ভারতের ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি শ্রমনির্ভর রফতানি খাত - যেমন টেক্সটাইল, পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, সামুদ্রিক পণ্য এবং অসংখ্য ছোট-মাঝারি শিল্প।

একই বৈঠকে উপস্থিত রাজেশ আগরওয়াল বলেন, যৌথ বিবৃতি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। “নেতৃত্বের স্তরে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর যৌথ বিবৃতি আসে। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই তা হতে পারে,” বলেন তিনি।

তবে আগরওয়াল গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক স্পষ্ট করেন। তাঁর মতে, যৌথ বিবৃতির পর সেটিকে আইনি চুক্তিতে রূপ দিতে হবে। সেই আইনি চুক্তি কার্যকর হলেই ভারত নিজের শুল্ক কমাতে পারবে। কারণ, আমেরিকার শুল্ক EO-র মাধ্যমে আরোপিত হলেও ভারতের শুল্ক ‘MFN ট্যারিফ’। তাই আইনি চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক কমানো সম্ভব নয়।

এর আগে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে ভারতের দুগ্ধ ও ‘সংবেদনশীল’ কৃষিপণ্য। একই সঙ্গে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ভারতীয় পণ্যে শূন্য শুল্কে প্রবেশাধিকার এবং শ্রমনির্ভর পণ্যে শুল্ক হ্রাসের কথাও রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছিলেন, ভারত আমেরিকার রফতানিতে শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে এবং শিল্পপণ্যে ভারতের শুল্ক ১৩.৫% থেকে শূন্যে নামতে পারে। তবে কৃষিপণ্যে কিছু সুরক্ষা বজায় রাখছে ভারত।

গোয়েল জানান, আইনি চুক্তির পর ভারত আরও কিছু বাড়তি ছাড় পেতে পারে, তাই দ্রুত কাজ এগোচ্ছে।

ট্রাম্প যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের আমেরিকা থেকে কেনাকাটার কথা বলেছিলেন, তা নিয়েও ব্যাখ্যা দেন গোয়েল। তাঁর যুক্তি, ভারতের দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতি বিপুল পরিমাণ এনার্জি, ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম এবং ICT পণ্য চাইবে।

“আমাদের ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমান ১৪০ মিলিয়ন টন থেকে কয়েক বছরের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন টনে পৌঁছবে। ফলে আমেরিকা থেকে কী কী কিনতে হবে তার হিসেব কষে আমরা অন্তত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা দেখেছি আগামী পাঁচ বছরে,” বলেন তিনি।

বিমান ক্রয় নিয়েও বড় অঙ্কের ইঙ্গিত দেন গোয়েল। “বোয়িংয়ের কাছে দেওয়া ও দেওয়ার জন্য প্রস্তুত অর্ডারের পরিমাণই ৭০–৮০ বিলিয়ন ডলার। ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ ধরলে তা ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে,” বলেন তিনি।

ডেটা সেন্টার খাতে বিপুল বিনিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে গোয়েল বলেন, “যদি ১০০–১৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসে, তাহলে সেই ডেটা সেন্টারের জন্য বিপুল সরঞ্জামও লাগবে।”

প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ট্রাম্পের যৌথ বিবৃতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। গোয়েলের কথায়, “সেই লক্ষ্য ছুঁতে হলে ভারত ও আমেরিকা - দু’পক্ষকেই রফতানি ও সোর্সিং বহুগুণ বাড়াতে হবে।”


```