নতুন অভিবাসন আইন অনুযায়ীই ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির হাতে ওই বিদেশিদের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই পর্যায়ক্রমে শুরু হবে তাঁদের সকলকে ফেরত পাঠানোর কাজ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 September 2025 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিন দেশের অবৈধভাবে বসবাসকারী নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA)। কয়েক মাস আগে থেকে শুরু হওয়া এই কাজে একাধিক ভারতীয়কেও ফেরত পাঠিয়েছে আমেরিকা। তাঁদের ফেরত পাঠানোর ধরন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। তবে সেসব এখন অতীত। এবার বিদেশি একাধিক নাগরিককে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল ভারতও (Indian Govt)।
সারা দেশে আটক প্রায় ১৬ হাজার বিদেশি নাগরিককে (Foreigners) ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদক পাচার (Narcotics Trafficking) থেকে শুরু করে একাধিক অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, এটিই সাম্প্রতিক কালে মাদকচক্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযানগুলির মধ্যে একটি।
কোন কোন দেশের নাগরিককে ফেরত পাঠানো হবে
ভারত সরকার যাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ, মায়ানমার, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, ঘানা এবং নাইজেরিয়ার নাগরিকরা। এরা বিভিন্ন রাজ্যের ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন বর্তমানে।
এনসিবি রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ
নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)-র জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চোরাচালানে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
নতুন আইন মেনে ফেরত পাঠানো হবে
এখনকার নতুন অভিবাসন আইন অনুযায়ীই ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির হাতে ওই বিদেশিদের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই পর্যায়ক্রমে শুরু হবে তাঁদের সকলকে ফেরত পাঠানোর কাজ।
বিদেশিদের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ে অনেক আগেই আরও কঠোর পথে হেঁটেছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ অনুযায়ী যাঁরা দেশবিরোধী কাজ বা গুরুতর অপরাধে জড়িত, তাঁদের ভারতে ঢোকা বা থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, প্রত্যেক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আটক শিবির বা ডিটেনশন ক্যাম্প গড়ে তুলতে হবে, যেখানে এ ধরনের বিদেশিদের রাখা হবে যতক্ষণ না তাঁদের ফেরত পাঠানো যায়। সেই সব জায়গা থেকেই আপাতত ১৬ হাজার জনকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত সরকার।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, ধর্ষণ, হত্যা, শিশু পাচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যোগ, মাদক পাচার, সাইবার অপরাধ, ভুয়ো নথি বা জাল নোট ব্যবহার—এই ধরনের অপরাধে জড়িত বিদেশিদের ভারতে প্রবেশ বা থাকা নিষিদ্ধ করা হবে।
পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের জন্য অন্যান্য একাধিক নিয়মও এনেছে সরকার -
এখন থেকে যে কোনও বিদেশি ভিসা বা ওসিআই (OCI) রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করলে তাঁর বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দিতে হবে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কোস্টগার্ডকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অবৈধভাবে ঢুকে পড়া বিদেশিদের শনাক্ত করে বায়োমেট্রিক ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা যায় এবং দ্রুত ফেরত পাঠানো যায়।
বিদেশিদের জন্য ‘প্রোটেক্টেড’ ও ‘রেস্ট্রিক্টেড’ এলাকায় ঢোকার ক্ষেত্রে আলাদা অনুমতি নিতে হবে। তবে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও চিনের নাগরিকদের জন্য উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু রাজ্য, জম্মু-কাশ্মীরের নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং আরও কিছু সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।