পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যশের বাবা সুরেশ কুমার যাদব পেশায় রংমিস্ত্রি। কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে তিনি ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের বিজনোর শাখায় প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা জমা করেছিলেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 September 2025 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনলাইন গেমে (Online Game) পরিবারের সমস্ত সঞ্চয় (Family Savings) উড়িয়ে দেওয়ার পর আত্মঘাতী (Suicide) ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র। লখনউয়ের (Lucknow) মোহনলালগঞ্জের ঘটনা। মাত্র ১২ বছরের যশ কুমার পড়ত স্থানীয় বিপিএস স্কুলে। রবিবার রাতে নিজের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে। সোমবার স্কুলে শোকবার্তা জারি করে ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যশের বাবা সুরেশ কুমার যাদব পেশায় রংমিস্ত্রি। কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে তিনি ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের বিজনোর শাখায় প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা জমা করেছিলেন। সম্প্রতি পাসবই আপডেট করতে গিয়ে দেখা যায়, সম্পূর্ণ অর্থ উধাও। খোঁজখবর করে জানা যায়, অনলাইন গেম ফ্রি ফায়ার-এ লেনদেনের মাধ্যমে টাকা খরচ হয়েছে।
প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে যশ স্বীকার করে নেয় যে, গেম খেলতে খেলতেই টাকা হারিয়েছে। বাবা তাকে বকাঝকা না করে বোঝানোর চেষ্টা করেন। বাড়ির টিউশন শিক্ষকও প্রতিশ্রুতি দেন, যশকে মানসিকভাবে সামলে তুলবেন। কিন্তু সেই বোঝানোয় কাজ হয়নি।
পরিবার সূত্রে খবর, কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরই যশ নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছু পরে পরিবারের লোকজন ঘরে ঢুকে দেখে, সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে তার নিথর দেহ। দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মাত্র ১২ বছরের ছেলের এমন পরিণতিতে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মা বিমলা দেবী। দিদি গুঞ্জন কাঁদতে কাঁদতে অসহায় হয়ে পড়েন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইন গেমের প্রতি অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের অযাচিত আসক্তি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে সমাজজুড়ে।