সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, "সরকার শীঘ্রই ডিপফেক নিয়ন্ত্রণে একটি নিয়মনীতির খসড়া আনছে, যা কার্যকরভাবে চালানোর জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে।"

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 October 2025 20:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রযুক্তি নির্ভর যুগে এআই যেমন আশীর্বাদ, তেমন অভিশাপও বটে! সেই প্রমাণ দিয়েছে একাধিক ডিপফেক ভিডিও (Deepfake Video)। তবে কেবল আইন চালু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা যাবে না। প্রয়োজন প্রযুক্তিগত সমাধানের, এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (IT Minister Ashwini Vaishnaw)।
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, "সরকার শীঘ্রই ডিপফেক নিয়ন্ত্রণে একটি নিয়মনীতির খসড়া আনছে, যা কার্যকরভাবে চালানোর জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে।" তাঁর কথায়, "এআই অবকাঠামো তৈরিতে চিপের গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশের মধ্যে দু'টি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট- সিজি সেমি এবং কাইনস-এর উৎপাদন শুরু করেছে।"
এই ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে নতুন নিয়ম তৈরি করা হবে, চাইলে বর্তমান আইন সংশোধন করা হবে বা নতুন আইনে সম্ভব হলে আনা হবে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
বলিউড অভিনেত্রী যেমন কাজল, রশ্মিকা ডিপফেক ভিডিওর শিকার হয়েছে। সেইসব ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই পড়ে যায়। ভিডিওটি ফেক বা ভুয়ো বলে দাবি করেন অনেকেই। এমন ঘটনা পরপর হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
তথ্য অনুযায়ী, এআই ও ডিপফেক বিষয় নিয়ে কয়েকটি মূল দিক উপর আলোচনা হয়েছে:
ডিপফেক ভিডিও বা ছবিতে কারও শরীর বা মুখ বদলে দেওয়া হচ্ছে, যা অনেক সময় মানুষ ঠকাচ্ছে বা বিভ্রান্ত করছে।
সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে, ডিপফেক শনাক্ত করা, ছড়িয়ে পড়া কমানো, রিপোর্টিং ব্যবস্থা তৈরি করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো।
নিয়ম অনুসারে, শুধু নির্মাতা (creator) নয়, যে প্ল্যাটফর্মে আপলোড হয়েছে বা চালু করেছে, তার উপরও দায় বর্তাবে এমন কথা বলা হয়েছে।
অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, "শুধুমাত্র আইন তৈরি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রযুক্তিগত সমাধানও জরুরি। তাই সরকার একসঙ্গে নীতি ও প্রযুক্তি- দুই দিকেই কাজ করছে।" তিনি আরও জানান, দেশে মোট ছ'টি এআই মডেল তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে দু'টি মডেল প্রায় ১২০ বিলিয়ন প্যারামিটারে তৈরি হবে। এই মডেলগুলো পশ্চিমী প্রভাবমুক্ত ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ২০২৪ সালে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যা আমাদের দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। তিনি সতর্ক করে দেন, কেউ যেন এই প্রযুক্তির অপব্যবহার না করেন এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা ও শিক্ষার প্রসার ঘটানো জরুরি।