উমর খালিদ প্রসঙ্গে নিউ ইয়র্কের মেয়রের মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া দিল ভারত। অন্য গণতন্ত্রের বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করে নিজের দায়িত্বে মন দেওয়ার আর্জি জানাল দিল্লি।

উমর- মামদানি (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 9 January 2026 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশি জনপ্রতিনিধিদের মন্তব্যে সরাসরি আপত্তি জানাল ভারত। নিউ ইয়র্ক সিটির (New York City) মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani) জেলবন্দি সমাজকর্মী উমর খালিদকে (Umar Khalid) লেখা চিঠি ঘিরে শুক্রবার কড়া প্রতিক্রিয়া দিল বিদেশমন্ত্রক (Ministry of External Affairs)। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হল, অন্য গণতন্ত্রের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতাকে সম্মান করা প্রত্যাশিত।
শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) বলেন, “আমরা আশা করি, জন প্রতিনিধিরা অন্য গণতন্ত্রের বিচারব্যবস্থার (Judiciary) স্বাধীনতাকে সম্মান করবেন। ব্যক্তিগত পক্ষপাত প্রকাশ করা পদাধিকারীদের শোভা পায় না। এ ধরনের মন্তব্যের বদলে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে মন দেওয়া উচিত।”
এর আগে চলতি মাসে মামদানির হাতে লেখা একটি সংক্ষিপ্ত নোটের ছবি এক্সে (X) পোস্ট করেন উমর খালিদের বন্ধু বনোজ্যোৎস্না লাহিড়ী (Banojyotsna Lahiri)। শেয়ার করা হয় উমরের অ্যাকাউন্ট থেকেও। ওই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নেন মামদানি। চিঠিতে তিনি উমরকে লিখেছিলেন, “প্রিয় উমর, তিক্ততা নিয়ে তোমার কথাগুলো আমি প্রায়ই ভাবি, কী ভাবে তাকে নিজের ভিতরে গ্রাস করতে দেওয়া যায় না। তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে ভাল লেগেছে। আমরা সবাই তোমার কথা ভাবছি।”
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (December 2025) মাসে উমর খালিদের বাবা-মা আমেরিকা (United States) সফরে গেলে মামদানি তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তখনই এই নোটটি তাঁদের হাতে তুলে দেন। বনোজ্যোৎস্না লাহিড়ী এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, খালিদের বাবা-মা সাহিবা খানম (Sahiba Khanam) ও সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস (Syed Qasim Rasool Ilyas) তাঁদের কনিষ্ঠ মেয়ের বিয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরেক মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেই সেখানে গিয়েছিলেন।
এই প্রেক্ষিতেই ফের সামনে এসেছে উমর খালিদের জামিন প্রসঙ্গ। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি (January 5) সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) দিল্লিতে অশান্তি (Delhi Riots) সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র মামলায় উমর ও শরজিল ইমামকে (Sharjeel Imam) জামিন দিতে অস্বীকার করে। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার (Aravind Kumar) ও এন ভি অঞ্জারিয়ার (N V Anjaria) বেঞ্চ জানায়, বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ (UAPA) অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে মামলা দাঁড়াচ্ছে। শুধু বিচারের বিলম্বকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ধরে আইনগত সুরক্ষা বাতিল করা যায় না বলেও মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।
যদিও ওই একই মামলায় ইউএপিএ ও ভারতীয় দণ্ডবিধির (Indian Penal Code) বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত গুলফিশা ফাতিমা (Gulfisha Fatima), মীরান হায়দার (Meeran Haider), শিফা উর রহমান (Shifa Ur Rehman), মহম্মদ সেলিম খান (Mohd. Saleem Khan) ও শাদাব আহমদ (Shadab Ahmad)-কে জামিন দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
সব মিলিয়ে, উমর খালিদকে লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠি ঘিরেই আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করে দিল নয়াদিল্লি, বিচারব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য নয়, দায়িত্ববোধই প্রত্যাশিত জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে।