বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে এই উৎক্ষেপণ হয় স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের সরাসরি অপারেশনাল তত্ত্বাবধানে। যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, প্রতিরক্ষা মহলে এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 December 2025 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা (Indian Defense System) ক্ষমতায় আরও এক ধাপ অগ্রগতি। বঙ্গোপসাগরে সফলভাবে পরীক্ষা করা হল পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম K-4 সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল (SLBM)। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয় পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন INS আরিঘাত থেকে।
বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে (Bay of Bengal) এই উৎক্ষেপণ হয় স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের সরাসরি অপারেশনাল তত্ত্বাবধানে। যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে প্রতিরক্ষা মহলে এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এটি K-4 ক্ষেপণাস্ত্রের দ্বিতীয় সফল পরীক্ষা। এর আগে গত বছর প্রথমবার INS আরিঘাত থেকেই এই মিসাইলের পরীক্ষা হয়েছিল। পরপর দুটি সফল উৎক্ষেপণের ফলে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পূর্ণ অপারেশনাল অন্তর্ভুক্তির পথ অনেকটাই মসৃণ হল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
DRDO-র তৈরি K-4 একটি সলিড-ফুয়েল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা বিশেষ ভাবে ভারতের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনগুলির জন্য তৈরি। এই মিসাইল ভারতের ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’ - অর্থাৎ প্রথম আঘাতের পরও পাল্টা পারমাণবিক হামলার ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া INS আরিঘাত প্রায় ৬,০০০ টন ওজনের একটি আধুনিক পারমাণবিক সাবমেরিন। এই সাবমেরিনে K-4 ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে ২০১৬ সালে কমিশন হওয়া ভারতের প্রথম পারমাণবিক সাবমেরিন INS আরিহন্ত-এ ছিল তুলনামূলক কম পাল্লার K-15 ক্ষেপণাস্ত্র, যার পরিসর প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার। সেই তুলনায় K-4 অনেক বেশি দূরপাল্লার এবং কৌশলগত দিক থেকে অনেক বেশি কার্যকর।
প্রসঙ্গত, এর আগে K-4 ক্ষেপণাস্ত্রের একাধিক পরীক্ষা সাবমার্সিবল পন্টুন থেকে করা হলেও, সরাসরি সাবমেরিন INS আরিঘাত থেকে উৎক্ষেপণ ভারতের সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বড় সাফল্য বলেই ধরা হচ্ছে।
বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলির মধ্যে আমেরিকা, রাশিয়া ও চিন ইতিমধ্যেই ৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার SLBM মোতায়েন করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের K-4 কর্মসূচিকে বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।