তুষারপাত শুরু হওয়ার আগেই সীমান্তে মোতায়েন করা হল বিশাল সেনাবাহিনী। পহেলগামের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতেই প্রস্তুতি নিয়েছে ভারতীয় সেনা।
.jpeg.webp)
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 13 October 2025 09:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) এখনও বড় পড়েনি। সীমান্ত বরফের চাদরে ঢেকে যাওয়ার আগেই সেখানে বিপুল সংখ্যায় সেনা ও আধা সেনা মোতায়েন করেছে ভারত (huge deployment of Indian soldiers in border villages of J and K)। সীমন্ত গ্রামগুলিতেও সেনা ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। নিকট অতীতে সেনার এমন তৎপরতা দেখা যায়নি।
জানা যাচ্ছে পহেলগামের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই পদক্ষেপ করেছে সরকার ও সেনা কর্তৃপক্ষ। পহেলগামের হামলাকারীরা বরফ পড়ার আগেই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে ঢুকে পড়েছিল। অনেক পরে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী গুলি তাদের উপস্থিতি বুঝতে পারে। প্রায় গোটা কাশ্মীর জুড়েই বিভিন্ন এলাকায় সেনা জঙ্গির লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছিল চলতি বছরের মার্চের গোড়া থেকে।
এরই মধ্যে জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে পহেলগামে ২৬ নিরীহ পর্যটককে হত্যা করে। ওই ঘটনায় পাক জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ নিয়ে করা সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনী গুলি। তদন্তে জানা যায় গত বছর শীতের ঠান্ডা পড়ার আগেই পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরা ভারতের সীমান্ত গ্রামগুলিতে ঢুকে পড়েছিল। পুরোপুরি বরফ না পরা পর্যন্ত তারা সেখানে গা ঢাকা দিয়ে থাকে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলির বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে থাকতে শুরু করে। মার্চের গোড়ায় তাদের অস্তিত্ব টের পেলে একাধিক জায়গায় ভারতের যৌথ বাহিনীর কড়া প্রতিরোধের মুখে পড়ে পাক সন্ত্রাসীরা।
পহেলগামের ঘটনার পর পাকিস্তানকে জবাব দিতে অপারেশন সিঁদুর অভিযান যা চালায় ভারত। নয়াদিল্লির তরফে ঘোষণা করা হয়েছে সেই সংঘাত স্থগিত করা হয়েছে, বন্ধ করা হয়নি। প্রয়োজনে ফের পাকিস্থানে উপর হামলা চালাবে ভারতীয় বাহিনী।
তবে সীমান্তের বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার ও সেনাবাহিনীর এবার আরও তৎপর। সেই কারণে বরফের চাদরে সীমান্ত ঢাকা পড়ার আগেই সেখানে বিপুল সংখ্যায় সেনা মোতায়ন করে রাখা হয়েছে। যাতে পাক অনুপ্রবেশকারীরা লাইন অফ কন্ট্রোল বা সীমান্ত রেখা পেরতে না পারে।
পহেলগামের ঘটনার পর তদন্তে উঠে আসে কীভাবে পাক সন্ত্রাসীরা সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। জানা যায় পাক এজেন্টরা তাদের আগে থেকে ঠিক করা বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। তাদের জন্য ভারতীয় সিম বরাদ্দ করা হয়েছিল। যাতে নিজেদের আস্তানা এবং যোগাযোগ গোপন রাখা যায়। এবার সেই সুযোগ না দিতেই অনেক আগে থেকেই সীমান্তে বাড়তি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বরফ ঘেরা সীমান্তেই সেনাবাহিনী নজরদারির কাজ চালিয়ে যাবে।