ভারতের প্রথম সচিব অনুপমা সিং ‘রাইট অব রিপ্লাই’ প্রয়োগ করে বলেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর অভিযোগ, ইসলামিক কো-অপারেশন কার্যত পাকিস্তানের বক্তব্যই প্রতিধ্বনিত করেছে।

নরেন্দ্র মোদী এবং শাহবাজ শরিফ
শেষ আপডেট: 26 February 2026 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেনিভার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir) প্রসঙ্গে পাকিস্তান ও অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন-এর (OIC) মন্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত (India at UN)। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৫৫তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নয়াদিল্লির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ইসলামাবাদের বক্তব্য বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন (India Pakistan At UN)।
ভারতের প্রথম সচিব অনুপমা সিং (Anupama Singh) ‘রাইট অব রিপ্লাই’ প্রয়োগ করে বলেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর অভিযোগ, ইসলামিক কো-অপারেশন (OIC) কার্যত পাকিস্তানের বক্তব্যই প্রতিধ্বনিত করেছে। এতে সংগঠনটি একটি নির্দিষ্ট দেশের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার মঞ্চে পরিণত হয়েছে বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
পাকিস্তানের বক্তব্যে ‘ঈর্ষার গন্ধ’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ভারতের প্রতিনিধি। তাঁর দাবি, অমীমাংসিত একমাত্র বিষয় হল পাকিস্তানের দখলে থাকা ভারতের ভূখণ্ড। সেই অঞ্চল খালি করার জন্য ইসলামাবাদকে আহ্বান জানান তিনি।
কাশ্মীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে - এ কথা প্রমাণ করতে নির্বাচনে রেকর্ড ভোটদানের প্রসঙ্গ তোলেন অনুপমা সিং। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দিয়েছে যে সন্ত্রাস ও হিংসার রাজনীতি মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও জোরালো দাবি করে ভারত। গত বছর উদ্বোধন হওয়া চেনাব রেল সেতুর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতুকে যদি কেউ ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করেন, তবে তা বাস্তববোধের অভাবই প্রমাণ করে। কটাক্ষের সুরে তিনি যোগ করেন, এমন দাবি করলে মনে হয় পাকিস্তান যেন 'লা লা ল্যান্ড' বা কল্পনার জগতে বাস করছে।
উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনাও টানেন ভারতের প্রতিনিধি। তাঁর কথায়, জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে পাকিস্তান যে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি।
সব মিলিয়ে, কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে দিল নয়াদিল্লি। ভারতের বার্তা স্পষ্ট - উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, আর সেই বাস্তবতা অস্বীকার করলেই তা সত্য বদলে যায় না।
এদিকে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছেন যাতে একদিকে চাপে এবং অন্যদিকে অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে পাকিস্তান। ট্রাম্প দাবি করেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, আমি না থাকলে সাড়ে তিন কোটি মানুষ মারা যেত।” ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘটানোর কৃতিত্ব তাঁর - এটাই আরও একবার মনে করাতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।