এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় নেওয়া হল, যখন সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতীয় স্বার্থ এবং কূটনৈতিক মিশনগুলিকে ঘিরে একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনার কথা সামনে এসেছে।

শেষ আপডেট: 18 December 2025 15:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার রাজশাহি এবং খুলনায় অবস্থিত দু’টি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (IVAC) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার (India shuts visa centres in Bangladesh)।
IVAC-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, “চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির (India Bangladesh diplomatic tension) কারণে আজ, অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রাজশাহি ও খুলনা IVAC বন্ধ রাখা হচ্ছে। যাঁদের আজ ভিসা জমা দেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা ছিল, তাঁদের পরবর্তী কোনও দিনে নতুন করে স্লট দেওয়া হবে।”
ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস ঘিরে হুমকির আবহ
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় নেওয়া হল, যখন সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতীয় স্বার্থ এবং কূটনৈতিক মিশনগুলিকে ঘিরে একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনার কথা সামনে এসেছে। তারই প্রেক্ষিতে কয়েক দিন আগে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার মহম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত।
ভারতের তরফে জানানো হয়, ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন (Indian High Commission Dhaka)-কে লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকি এবং বাংলাদেশের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)-র এক নেতা হুমকি দেন যে, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে ‘সেভেন সিস্টার্স’, অর্থাৎ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে দেবে।
ভারতের কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি
এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, “বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্কের শিকড় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে, যা পরবর্তীকালে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হয়েছে। ভারত বরাবরই বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে কথা বলেছি। কূটনৈতিক দায়িত্ব অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থিত সমস্ত মিশন ও পোস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব।”
বিদেশ মন্ত্রক আগেও স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, কূটনৈতিক নিয়ম মেনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ভারতের দূতাবাস এবং অন্যান্য কনস্যুলার অফিসগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। একইসঙ্গে ভারত বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষেই রয়েছে বলেও জানানো হয়।
শেখ হাসিনার মন্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক টানাপড়েন
এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। সেখানে ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র দেওয়া ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
এর জবাবে নয়াদিল্লি জানায়, ভারত কখনওই তার ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনও কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে দেয়নি।
মৃত্যুদণ্ড, নির্বাসন এবং বদলে যাওয়া সম্পর্ক
উল্লেখ্য, গত মাসে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল শেখ হাসিনাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে’ দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়। অভিযোগ ছিল, গত বছর ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁর সরকারের কঠোর দমননীতির বিরুদ্ধে।
৭৮ বছর বয়সি আওয়ামি লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ অগস্ট দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। সেই সময় থেকেই তিনি ভারতে বসবাস করছেন।
এরই মধ্যে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপড়েন আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা, বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা, নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ভারত।