বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত সমস্ত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায় ভারত কঠোরভাবে পালন করে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 December 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে (New Delhi) বাংলাদেশ হাইকমিশনের (Bangladesh High Commission) সামনে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের একটি অংশে প্রকাশিত খবরকে ‘ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করল ভারত (India)। রবিবার বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওই ঘটনায় হাইকমিশনের নিরাপত্তা ভাঙার কোনও চেষ্টাই হয়নি।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) জানান, ২০ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের (Bangladesh High Commission) সামনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যুবক জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবিতেই এই বিক্ষোভ হয় বলে জানানো হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কোনও সময়েই হাইকমিশনের বেড়া ভাঙার চেষ্টা হয়নি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।”
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ঘটনার ভিডিও (Video) প্রকাশ্যে রয়েছে, যা থেকে প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, সহজেই জানা যায়। বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত সমস্ত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায় ভারত কঠোরভাবে পালন করে।
বিদেশ মন্ত্রকের এই স্পষ্টীকরণ এমন এক সময় এল, যখন ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের (Dipu Chandra Das) নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে সংবেদনশীলতা বেড়েছে। দিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবাদ ছিল শান্তিপূর্ণ এবং সীমিত পরিসরে, কোনওভাবেই তা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়নি।
কে ছিলেন বাংলাদেশের মৃত যুবক
নিহত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস (Dipu Chandra Das)। বয়স ২৫ বছর। তিনি পেশায় পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন। সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের (Mymensingh) ভালুকা এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একদল উত্তেজিত জনতা দীপুকে মারধর করে। পরে তাঁর দেহ একটি গাছে বেঁধে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
দীপু ময়মনসিংহের স্কোয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। নিহত যুবকের বাবা রবিলাল দাস জানান, ছেলের মৃত্যুর খবর প্রথমে তাঁরা সামাজিক মাধ্যম থেকেই জানতে পারেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছে।