শিশুমৃত্যুহারের এই পতন সম্ভব হয়েছে মূলত মা-সন্তান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারের কারণে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 September 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশের উত্তর-পূর্ব রাজ্য মণিপুর (Manipur)। সাম্প্রতিক স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (SRS) রিপোর্ট অনুযায়ী, মণিপুরে প্রতি ১ হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে মাত্র ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে (Infant mortality rate) – যা দেশকে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নতুন শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
জাতীয় স্তরে, ২০২৩ সালে ভারতের শিশু মৃত্যু হার (IMR) রেকর্ডভাবে ২৫-এ নেমে এসেছে। এটি ২০১৩ সালের ৪০-এর তুলনায় ৩৭.৫ শতাংশের উল্লেখযোগ্য পতন। দক্ষিণ ভারতের কেরলও (Kerala) এই সূচকে অসাধারণ ফলাফল দেখিয়েছে, যেখানে ৫-এর একক অঙ্কের IMR রিপোর্ট করা হয়েছে – যা দেশের ২১টি বড় রাজ্যের মধ্যে একমাত্র একক-অঙ্কের IMR।
রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় IMR ৪৪ থেকে ২৮-এ নেমে এসেছে এবং শহুরে এলাকায় ২৭ থেকে ১৮-এ নেমেছে। এটি প্রায় এক দশক পরে প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং ৩৩ শতাংশের পতন নির্দেশ করছে। এছাড়াও, জন্ম ও মৃত্যুহারের হ্রাসও লক্ষ্য করা গিয়েছে।
জন্মহার ও মৃত্যুহার কী বলছে?
জন্মহার একটি অঞ্চলের প্রতি হাজার জনসংখ্যায় জীবিত জন্মের সংখ্যা নির্দেশ করে। এটি দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যা বৃদ্ধির মূল সূচক হিসেবে ধরা হয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে দেশের জন্মহার ৩৬.৯ থেকে কমে ২০২৩ সালে ১৮.৪-এ নেমেছে। গ্রামীণ-শহুরে ব্যবধানও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তবে গত পাঁচ দশকে গ্রামীণ এলাকায় জন্মহার শহুরে এলাকার তুলনায় বেশি রয়ে গেছে।
গত দশকে জন্মহার প্রায় ১৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যেখানে গ্রামীণ এলাকায় ২২.৯ থেকে ২০.৩ এবং শহরে প্রায় ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৩ সালে বিহারের জন্মহার সর্বোচ্চ ২৫.৮, আর আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের জন্মহার সর্বনিম্ন ১০.১।
মৃত্যুহারও গত পাঁচ দশকে ধীরে ধীরে কমে ১৪.৯ (১৯৭১) থেকে ৬.৪ (২০২৩) হয়েছে।
শিশুমৃত্যুহারের হ্রাসের কারণ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুমৃত্যুহারের এই পতন সম্ভব হয়েছে মূলত মা-সন্তান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারের কারণে। এতে রয়েছে গর্ভবতী মহিলাদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা, উন্নত প্রসূতি ব্যবস্থাপনা এবং নবজাতক যত্ন।
এছাড়া, ভ্যাকসিনেশন সম্প্রসারণ, যা শিশুকে মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করে, এবং সরকারের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ অভিযানের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে পুষ্টির উন্নতি, মা ও শিশুর মধ্যে অপুষ্টি কমাতে সাহায্য করেছে। এই সমস্ত পদক্ষেপ শিশুমৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।