দেশে প্রথম সরকারি এআই ক্লিনিকের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিসেবায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অধ্যায়ের শুরু।কীভাবে কাজ করবে এই ক্লিনিক, আর আদৌ কি চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে?

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 January 2026 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রথম সরকারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চিকিৎসাকেন্দ্রের সূচনা হল নয়ডায়। গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (GIMS) চালু হল ভারতের প্রথম সরকারি এআই ক্লিনিক (AI Clinic)। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে বাস্তব রূপ দেওয়ার পথে এটিকে বড় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা।
এই এআই ক্লিনিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জেনেটিক স্ক্রিনিং (Genetic Screening)-এর সাহায্যে ক্যানসার, হৃদরোগ, কিডনি ও লিভারের মতো গুরুতর অসুখ খুব প্রাথমিক স্তরেই শনাক্ত করার ব্যবস্থা থাকবে। শুধু রোগ ধরা নয়, চিকিৎসা ও রোগ থেকে সেরে ওঠার সম্ভাবনাও বিশ্লেষণ করবে এআই। রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট, বিভিন্ন স্ক্যান এবং জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই কাজ করা হবে।
GIMS-এর ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার (ডাঃ) রাকেশ কুমার গুপ্ত (Brigadier Dr. Rakesh Kumar Gupta) জানান, এই ক্লিনিকে রক্তপরীক্ষা, ইমেজিং স্ক্যান এবং অন্যান্য ক্লিনিক্যাল ডেটা বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হবে। এক্স-রে, আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান (CT Scan), এমআরআই (MRI) এবং ল্যাবরেটরি রিপোর্ট এআই টুলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয় আরও নিখুঁত করা হবে।
তাঁর কথায়, “এটা এখন সময়ের দাবি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সরাসরি রোগী ও চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছবে।” পাশাপাশি এই ক্লিনিক স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কাজ করা বিভিন্ন স্টার্টআপের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
কী এই এআই ক্লিনিক?
এটি মূলত উন্নত অ্যালগরিদম ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সাহায্যে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনাকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করে তোলার জন্য তৈরি। হাসপাতালের মধ্যেই বা আলাদা ইউনিট হিসেবে এই ক্লিনিক কাজ করে, যেখানে রোগীর উপসর্গ রিয়েল টাইমে বিশ্লেষণ করে এআই সিস্টেম। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল বা চিকিৎসা পরিসেবায় পিছিয়ে থাকা এলাকায় এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা নিতে পারে।
রোগী পরিসেবায় কীভাবে সাহায্য করবে?
এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই বিশ্লেষণে এআই খুব দ্রুত হাড়ভাঙা, ফুসফুসের গাঁট বা সূক্ষ্ম টিউমারের মতো সমস্যা ধরতে পারবে। জরুরি অবস্থায় এতে সময় বাঁচে এবং গুরুতর রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সহজ হয়। ক্লিনিক্যাল সেটআপে এআই প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করে, ফলে রেডিওলজিস্টদের কাজের চাপ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
প্যাথলজি ক্ষেত্রেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। টিস্যু বিশ্লেষণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে এমন প্যাটার্ন ধরতে পারবে, যা অনেক সময় মানবচক্ষে ধরা পড়ে না। এর ফলে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় সম্ভব হবে।
ক্যানসারের ক্ষেত্রে এআই-এর অবদান আরও গুরুত্বপূর্ণ। ইমেজিং ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক স্তরেই ক্যানসার শনাক্ত করা যাবে, ফলে চিকিৎসার সাফল্যের হার বাড়বে। পাশাপাশি রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস, জীবনযাপন ও জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পার্সোনালাইজড ট্রিটমেন্ট (Personalised Treatment) দেওয়ার পথও খুলে যাবে।
সব মিলিয়ে, গ্রেটার নয়ডার এই এআই ক্লিনিক ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।