ভারত-পাক যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাগুলিই রাষ্ট্রসংঘের ভাষণে বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। যুদ্ধ বিরতি উপক্ষা করে ভারত যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে চলছে বলেও অভিযোগ করেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 September 2025 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রসংঘের (UN) সাধারণ পরিষদের সভায় ভাষণ দিয়ে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Pakistan PM Shehbaz Sharif) দাবি করেছেন - ভারতের বিরুদ্ধে তাঁরা জয়ী হয়েছেন। তাঁর এই দাবিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছে ভারত (India)। বক্তব্য, 'অযৌক্তিক নাটক' করবেন না।
ভারত-পাক যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) কথাগুলিই রাষ্ট্রসংঘের ভাষণে বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। যুদ্ধ বিরতি উপক্ষা করে ভারত যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে চলছে বলেও অভিযোগ করেন। পাশাপাশি তাঁর এও দাবি, সংঘাতে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁরা জয়লাভ করেছে। পাকিস্তানের এই দাবিকেই নস্যাৎ করেছে ভারত।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি পেটাল গহলট বলেন, ''অযৌক্তিক নাটক' (Absurd Theatrics) সাজাবেন না। গোটা বিশ্ব জানে পাকিস্তান কী করে। সারা বছর ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি নাশকতা চালিয়ে যুদ্ধ উন্মাদনা চালিয়ে যায়।'' তাঁর কটাক্ষ, ''যদি ধ্বংস হয়ে যাওয়া রানওয়ে (Destroyed Runway) এবং ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া বাঙ্কার দেখে মনে হওয়া জয় হয়েছে তাহলে চাই পাকিস্তান সেটা উপভোগ করুক।''
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) ও পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির (Asim Munir) সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ইসলামাবাদ (Islamabad) যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তাতে দাবি করা হয়, পাকিস্তান-ভারত অস্ত্রবিরতি কার্যকর করতে ‘সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্ব’ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, গাজা সঙ্কট মেটাতে তাঁর মুসলিম বিশ্বকে আলোচনায় আনার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে পাকিস্তান। এতএব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যে দাবি করে আসছেন, তাকেই মান্যতা দিয়েছে তারা।
ভারতের বক্তব্য ভিন্ন। নয়াদিল্লি বরাবরই বলে এসেছে, অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব এসেছিল পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে সরাসরি ভারতীয় সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি সংসদে জানান, ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলা থেকে শুরু করে ১৭ জুন অস্ত্রবিরতির দিন পর্যন্ত মোদী-ট্রাম্পের মধ্যে কোনও ফোনালাপ হয়নি।
ভারতের দাবি, পাকিস্তানি ডিরেক্টর-জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তার আগে ভারত পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ও পাকিস্তানের ভিতরে একাধিক সন্ত্রাসঘাঁটি, সামরিক রাডার, হ্যাঙ্গার, অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট প্ল্যাটফর্ম, এমনকী একটি এডব্লিউএসিএস বিমান ধ্বংস করে।