বাড়তে থাকা জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমে আসায়, দেশের খুচরো বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার গত আট বছরের মধ্যে সবথেকে কমে ১.৭৬ শতাংশে এসে ঠেকতে পারে।

মাসের হিসাব ধরলে কিছু সবজিপাতির দাম বেড়েছে।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়তে থাকা জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমে আসায়, দেশের খুচরো বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার গত আট বছরের মধ্যে সবথেকে কমে ১.৭৬ শতাংশে এসে ঠেকতে পারে। জুলাই মাস পর্যন্ত একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বেঁধে দেওয়া ২-৬ শতাংশ সহনশীলতার মাত্রার সর্বনিম্নের থেকেও কমে নেমে আসতে পারে খুচরো বাজারের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের পোল অফ ইকনমিস্টসের একটি রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বিক্ষিপ্ত বর্ষা ও জোরাল বসন্তকালীন চাষবাস দেশের খাদ্যপণ্য মূল্যের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসকারী ধারা বজায় ছিল। আরবিআি রেপো রেট ৫.৫০ শতাংশে অপরিবর্তত রেখে বলেছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি আরও স্বস্তি দেবে বাজারে।
উপভোক্তা মূল্য সূচকের (CPI) বার্ষিক পরিবর্তন ২.১০ শতাংশ থেকে নেমে জুলাইয়ে এসে দাঁড়িয়েছে ১.৭৬ শতাংশে। মাত্র এক মাস আগেই তা ছিল ২.১০ শতাংশে। ৪১ জন অর্থনীতিবিদকে দিয়ে ৪-৮ অগস্ট পর্যন্ত আর্থিক সমীক্ষায় মধ্যবর্তী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিপিআইয়ের হার ১.১০ থেকে ৩.১০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের প্রিন্সিপাল ইকনমিস্ট সাক্ষী গুপ্তা বলেন, আমরা আশা করছি খাদ্যপণ্যের দামবৃদ্ধির হার কমবে। গতবছর উৎপাদন ভারসাম্য খুবই ভাল থাকায় এটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির হারে অবনমন ঘটবে। তবে মাসের হিসাব ধরলে কিছু সবজিপাতির দাম বেড়েছে বলে স্বীকার করে নেন তিনি। দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, যেমন- পেঁয়াজ এবং টম্যাটোর দাম। তবে এই বৃদ্ধির হার খুবই মধ্যমানের এবং কম, তার কারণ মরশুমি আনাজ এগুলি।
চলতি আর্থিক বছরে মুদ্রাস্ফীতির হার গড়ে ৩.৪০ শতাংশে থাকার অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু, হার নিম্নমুখী হওয়া দেশের অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনে আরবিআইয়ের পক্ষে সহায়ক হবে। বিশেষত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কচাপের পরিবেশে খুচরো বাজারের এই স্বস্তি দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত রাখবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।