পেট্রোল-ডিজেলের (Petrol-Diesel) জোগান স্বাভাবিক, সব তেলকেন্দ্র নিয়মমাফিক চালু আছে। এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহও স্থিতিশীল। দেশীয় উৎপাদন বেড়ে এখন দৈনিক চাহিদার অর্ধেকের বেশি মেটাতে পারছে, ফলে আমদানির চাপ কমেছে।
.jpeg.webp)
জ্বালানির মজুত নিয়ে কেন্দ্র
শেষ আপডেট: 26 March 2026 21:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি (West Asia Conflicts) চললেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ (Fuel Crisis in India) পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে, আশ্বস্ত করল কেন্দ্র। সরকার জানিয়েছে, দেশে পেট্রল, ডিজেল বা এলপিজি-র (LPG) কোনও ঘাটতি নেই; বরং আগামী দুই মাসের জন্য পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজব নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।
৬০ দিনের তেল- জ্বালানি স্টক তৈরি, জোগান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল আগেই নিশ্চিত করা হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলো আগাম আমদানির চুক্তি করে রেখেছে, ফলে দেশের জোগানে কোনও ফাঁক নেই। হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, ৪০টিরও বেশি দেশের কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল পাওয়া যাচ্ছে। অন্য অঞ্চলের বাড়তি সরবরাহে কোনও জট সৃষ্টি হয়নি। দেশের রিফাইনারিগুলো ১০০ শতাংশ চালু আছে।
৭৪ দিনের রিজার্ভ ক্ষমতা, হাতে এখন ৬০ দিনের স্টক
ভারতের (India) মোট মজুত ক্ষমতা ৭৪ দিন। বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে- যার মধ্যে আছে যার মধ্যে আছে ক্রুড অয়েল, পরিশোধিত জ্বালানি এবং ভূগর্ভস্থ স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ। কেন্দ্রের ঘোষণা, যুদ্ধের ২৭তম দিনেও ভারতের কাছে পুরো দুই মাসের মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত আছে। তার উপর অতিরিক্ত আমদানির পরিকল্পনাও চলছে।
দেশে কোথাও জ্বালানির অভাব নেই
পেট্রোল-ডিজেলের (Petrol-Diesel) জোগান স্বাভাবিক, সব তেলকেন্দ্র নিয়মমাফিক চালু আছে। এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহও স্থিতিশীল। দেশীয় উৎপাদন বেড়ে এখন দৈনিক চাহিদার অর্ধেকের বেশি মেটাতে পারছে, ফলে আমদানির চাপ কমেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে বড় এলপিজি আমদানি ইতিমধ্যে মাঝপথে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে এও স্পষ্ট করা হয়েছে, পাইপড ন্যাচরাল গ্যাস (PNG) প্রচার কোনও ঘাটতির কারণে নয়। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী শক্তির দিকে ধীরে ধীরে এগোতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভুয়ো তথ্য ছড়ালে নেওয়া হবে ব্যবস্থা
মন্ত্রক জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও ভিডিও মানুষকে আতঙ্কিত করছে। এগুলোর কোনও ভিত্তি নেই। জনসাধারণকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি খবর ও ঘোষণায় বিশ্বাস করতে। গুজব রটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের আশ্বাস, যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও দেশের জ্বালানি জোগান নিরাপদ এবং আগামী মাসগুলোতেও কোনও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।