পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভারত ইতিমধ্যেই ত্রাণ পাঠাতে শুরু করেছে। নৌবাহিনী, বায়ুসেনা ও এনডিআরএফ- সব বাহিনীই ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’-র আওতায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিলিতে অংশ নিচ্ছে।
.jpg.webp)
বন্যাক্রান্ত শ্রীলঙ্কা
শেষ আপডেট: 2 December 2025 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্যাক্রান্ত শ্রীলঙ্কার জন্য ত্রাণ পাঠাতে পাকিস্তানের (Paksitan) বিমান ভারতের (India) আকাশপথ ব্যবহার করতে চেয়েছিল। ভারত মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে তার অনুমোদন দিয়েছে (Airspace permission)। একাধিক পাক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ভারত আকাশসীমা খুলে দিতে রাজি হয়নি। কিন্তু সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মানবিক কারণে দিল্লি যত দ্রুত সম্ভব অনুমতি দিয়েছে।
১ ডিসেম্বর দুপুর ১টা নাগাদ পাকিস্তান ভারতের (India-Pakistan) কাছে অনুরোধ জানায়, শ্রীলঙ্কার (Srilanka) বন্যা-পরিস্থিতিতে সাহায্য পাঠানোর জন্য তাদের বিমানকে ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হোক। বিষয়টি মানবিক সহায়তার হওয়ায় ভারত তৎক্ষণাৎ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই অনুমোদন দিয়ে দেয়। অর্থাৎ, মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই সবুজ সংকেত পায় পাকিস্তান।
ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় 'দিতওয়াহ'-র (Cyclone Ditwah) ধাক্কায় শ্রীলঙ্কায় এখনও পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ আশ্রয় হারিয়েছে, বেশ কয়েকটি জেলা দেখেছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এই বিপদের সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সাহায্য চেয়ে আবেদন জানায় কলম্বো।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভারত ইতিমধ্যেই ত্রাণ পাঠাতে শুরু করেছে। নৌবাহিনী, বায়ুসেনা ও এনডিআরএফ- ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’-র আওতায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিলিতে অংশ নিচ্ছে। খাদ্য, চিকিৎসা সামগ্রী, বিশেষ উদ্ধারকারী দল, জাহাজ- সবই পাঠানো হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা ডিসানায়েকের (Anura Kumara Dissanayake) সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি শ্রীলঙ্কার মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আরও সহায়তা পাঠানোর আশ্বাস দেন।
ভারত সরকার জানিয়েছে, ‘ভিশন মহাসাগর’-এর অধীনে দেশটি সর্বদা অঞ্চলের ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে কাজ করে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রীলঙ্কাকে সব ধরনের সাহায্য করা হবে।
গত এপ্রিল মাসের পহেলগাম হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। একাধিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি পাক বিমানের জন্য ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও জারি করে দিল্লি। পাল্টা ভারতের জন্য একই নির্দেশ দেয় পাকিস্তানের সরকার। এতদিন এইভাবেই চলছিল। তবে সংকটের মুহূর্তে পাকিস্তানের ত্রাণবাহী বিমানকে দ্রুত অনুমতি দিয়ে ভারত আবারও প্রমাণ করল, মানবিক পরিস্থিতিতে মতপার্থক্য কোন বাধা নয়।