বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ শুল্ক এবং অনিশ্চিত চুক্তি প্রক্রিয়া ভারতের রফতানিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তবে কেন্দ্র আশাবাদী, গয়ালের কথায়, “আমরা তাড়াহুড়ো করব না, কিন্তু একটা সুষম, ন্যায়সংগত চুক্তি হবেই।”

কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 23:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “ভারত কোনও চুক্তি করে না তাড়া খেয়ে, বা কারও চাপে পড়ে। জাতীয় স্বার্থই আমাদের একমাত্র বিবেচনা,” শুক্রবার জার্মানির রাজধানীতে দাঁড়িয়ে এমনই দৃঢ় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল (Piyush Goyal on US trade talks)।
বার্লিন গ্লোবাল ডায়ালগে যোগ দিতে জার্মানিতে গিয়েছিলেন গয়াল। সেখানেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনায় আছি। আমেরিকার সঙ্গেও কথা চলছে। কিন্তু ভারত কোনও ডেডলাইনের মধ্যে, বা কারও ‘গান টু আওয়ার হেড’ রেখে বাণিজ্যচুক্তি করে না (India does not do deals in hurry or with gun to head)।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ট্রেড ডিল মানে শুধু আজকের দিনে ট্যারিফ কমানো নয়। এটা বিশ্বাস, সম্পর্ক ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রশ্ন। ভারত কখনও তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেয় না।”
গয়ালের কথায়, “ভারত বন্ধুত্বের সিদ্ধান্ত অন্যের নির্দেশে নেয় না, শুধুই নিজের জাতীয় স্বার্থে নেয়। কেউ বলবে, ইউরোপের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না, মেনে নেব না। কেউ বলবে, কেনিয়ার সঙ্গে কাজ করো না, তাও মেনে নেব না।”
তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “আজকের কাগজে দেখলাম, জার্মানি আমেরিকার কাছে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ছাড় চাইছে। ব্রিটেন তো ইতিমধ্যেই ছাড় পেয়ে গিয়েছে। তাহলে কেন শুধু ভারতকেই singled out করা হচ্ছে?”
প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি রাশিয়ার দুই বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী সংস্থা — রসনেফট ও লুকওইল-এর উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একইসঙ্গে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অজুহাতে’ ভারতের উপরে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছে ওয়াশিংটন।
তার সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের রফতানির উপর আরও ২৫ শতাংশ প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমানে আমেরিকায় প্রবেশ করা ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপিত।
নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়া, এই শুল্ক “অন্যায্য, অযৌক্তিক ও একপেশে”। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে মার্চ থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক আলোচনা। পাঁচ দফা বৈঠক ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটনে তিন দিনের বৈঠকে যোগ দেয় ভারতের প্রতিনিধি দল, নেতৃত্বে বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল।
ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের নেতৃত্ব প্রথম ধাপের আলোচনা শেষ করার সময়সীমা বেঁধেছিলেন ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ। তবে শুল্কবৃদ্ধির কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছিল কথাবার্তা। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আলোচনার পুনরারম্ভ হয়, যেখানে উভয় পক্ষই “ন্যায্য ও পারস্পরিকভাবে উপকারী” চুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয়।
প্রস্তাবিত চুক্তির লক্ষ্য— ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৯১ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলার করা।
বর্তমানে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩১.৮৪ বিলিয়ন ডলার (২০২৪-২৫)। ভারতের মোট পণ্য রফতানির ১৮ শতাংশই যায় আমেরিকায়।
বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রফতানি ১১.৯৩% হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৪৬ বিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে আমদানি বেড়েছে ১১.৭৮% — ৩.৯৮ বিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ শুল্ক এবং অনিশ্চিত চুক্তি প্রক্রিয়া ভারতের রফতানিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তবে কেন্দ্র আশাবাদী, গয়ালের কথায়, “আমরা তাড়াহুড়ো করব না, কিন্তু একটা সুষম, ন্যায়সংগত চুক্তি হবেই।”