নয়াদিল্লির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় ভারতের প্রচলিত তেল সরবরাহকারীরা ইউরোপমুখী হওয়ায়, রাশিয়ার সস্তা তেলের দিকে যেতে হয়েছে। সেই সময় আমেরিকা পর্যন্ত ভারতকে উৎসাহ দিয়েছিল, যাতে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 4 August 2025 23:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার থেকে তেল কেনা (Russian Crude Oil) নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নতুন করে হুমকি দেওয়ার পরে এবার কড়া ভাষায় জবাব দিল ভারত (India)। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কোনও অন্যায় নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতি বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত একান্ত প্রয়োজন।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরে পশ্চিমি দেশগুলি, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union), রাশিয়া থেকে বিপুল হারে পণ্য ও জ্বালানি আমদানি করে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ভারতকে নিশানা করাটা অযৌক্তিক ও পক্ষপাতদুষ্ট।
নয়াদিল্লির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় ভারতের প্রচলিত তেল সরবরাহকারীরা ইউরোপমুখী হওয়ায়, রাশিয়ার সস্তা তেলের দিকে যেতে হয়েছে। সেই সময় আমেরিকা পর্যন্ত ভারতকে উৎসাহ দিয়েছিল, যাতে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এদিকে সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৭.৫ বিলিয়ন ইউরো (পণ্য) ও ১৭.২ বিলিয়ন ইউরো (পরিষেবা)। অন্যদিকে ইউরোপ ২০২৪ সালে রাশিয়া থেকে ১৬.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করেছে, যা ২০২২-এর রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে।
আমেরিকাও এখনও রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড, প্যালাডিয়াম, সার ও নানা রাসায়নিক আমদানি করছে। তা সত্ত্বেও শুধু ভারতকে নিশানা করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দিল্লি।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, “ভারত দায়িত্বশীল অর্থনীতির মতোই জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা ভেবে কাজ করে। বিশ্ব বাণিজ্যের বাস্তবতা বিবেচনা না করে ভারতকে আলাদা করে দোষারোপ করা যুক্তিহীন।”
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কিনে পরে তা চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রি করছে ভারত। এর জেরে ভারতের উপরে শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে। কিন্তু সরকারি সূত্র বলছে, এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব ভারতের অর্থনীতির উপরে প্রায় নগণ্য, এবং জিডিপি-তে প্রভাব ০.২ শতাংশের বেশি হবে না। এক কথায়, ট্রাম্পের হুমকিতে ভয় পাচ্ছে না নয়াদিল্লি।