ভিডিওতে ললিত মোদীকে বলতে শোনা যায়, “আমরাই ভারতের দু’জন সবচেয়ে বড় পলাতক।” এই দৃশ্য ঘিরে দেশে নতুন করে ক্ষোভ ও বিতর্ক ছড়িয়েছে।

শেষ আপডেট: 27 December 2025 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত থেকে পালিয়ে যাওয়া আর্থিক মামলায় অপরাধী ও আইন এড়িয়ে চলা অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতেই সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ - এমনই বার্তা দিল বিদেশ মন্ত্রক (MEA on fugitives)। বিজয় মালিয়ার (Vijay Mallya) জন্মদিনের ভিডিও ঘিরে নতুন করে বিতর্কের আবহে শুক্রবার এই অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি (Indian Government)।
শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতে যারা আইনের চোখে পলাতক কিংবা যাদের খোঁজ চলছে, তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করানোই সরকারের লক্ষ্য।” তিনি জানান, এই বিষয়ে একাধিক দেশের সঙ্গে ভারতের আলোচনা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে।
তবে জয়সওয়াল এটাও স্পষ্ট করে দেন, এই ধরনের প্রত্যর্পণ মামলায় বহুস্তরীয় আইনি জটিলতা থাকে। তাঁর কথায়, “এতে বেশ কয়েকটি আইনি স্তর জড়িত। তবুও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এদের দেশে ফিরিয়ে এনে ভারতের আদালতে বিচার নিশ্চিত করব।”
বিদেশ মন্ত্রকের এই মন্তব্য এসেছে কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহের বক্তব্যের একদিন পর। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিজয় মালিয়ার মতো ব্যক্তিদের দ্রুত দেশে ফেরানো প্রয়োজন। তাঁর মন্তব্য, “ভয়ে এই ধরনের মানুষ দেশ ছাড়ে। এখন তো সন্ত্রাসবাদীদেরও প্রত্যর্পণ করা সম্ভব হচ্ছে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাহাউর রানা-কে, যাকে প্রত্যর্পণ করে আনা সম্ভব হয়েছে।
এই প্রসঙ্গেই মঙ্গলবার বম্বে হাইকোর্ট বিজয় মালিয়াকে কড়া বার্তা দেয়। আদালত জানিয়ে দেয়, মালিয়া যদি ভারতে ফিরে না আসেন, তবে ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার্স অ্যাক্ট-কে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর দায়ের করা আবেদন শুনবে না আদালত।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই সব ঘটনার মাঝেই সোমবার লন্ডনে বিজয় মালিয়ার ৭০তম জন্মদিন উদ্যাপনের একটি ভিডিও সামনে আসে। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন আরেক পলাতক অভিযুক্ত ললিত মোদী। সেখানে দেখা যায়, দু’জনেই নিজেদের ‘ভারতের সবচেয়ে বড় পলাতক’ বলে ব্যঙ্গ করছেন।
ভিডিওতে ললিত মোদীকে বলতে শোনা যায়, “আমরাই ভারতের দু’জন সবচেয়ে বড় পলাতক।” এই দৃশ্য ঘিরে দেশে নতুন করে ক্ষোভ ও বিতর্ক ছড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটেই বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, আইনি জটিলতা থাকলেও পলাতকদের দেশে ফেরানো নিয়ে কোনও আপসের প্রশ্ন নেই, তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল।