তবে, গত সপ্তাহে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল যখন ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীকে 'একজন মহান প্রধানমন্ত্রী' বলে অভিহিত করেন এবং বলেন যে তিনি সবসময় তার 'বন্ধু' থাকবেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।

নরেন্দ্র মোদী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পিটার নাভারো
শেষ আপডেট: 15 September 2025 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত (India) ও আমেরিকার (USA) মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক (Trade Talk) নিয়ে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক এক সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হবে।
হোয়াইট হাউসের (White House) বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো (Peter Navarro) এই আলোচনার আগে বলেছেন যে, 'ভারত আলোচনার টেবিলে আসছে'। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করার কয়েক সপ্তাহ পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই শুল্কের ফলে অগস্ট মাসে ভারতের রফতানি গত নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
ভারতের প্রধান আলোচক এবং বাণিজ্য মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়াল এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বাণিজ্য সম্পর্কিত একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ভারত ও আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনাকে 'ফাস্ট-ট্র্যাক' (Fast-Track) করবে।" তবে, তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাতে রাজি হননি। আগরওয়াল আরও বলেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার জন্য মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ এই আলোচনার জন্য মঙ্গলবার একদিনের সফরে নয়াদিল্লি আসবেন।
এক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেছিলেন যে, 'ভারতকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বসতেই হবে, অন্যথায় এর পরিণতি ভারতের জন্য ভাল হবে না'। একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাভারো এই প্রসঙ্গেই বলেন যে, ভারত তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ কারণ তিনি ভারতকে শুল্কের 'মহারাজা' হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি আরও বলেন, "এটি একেবারেই সত্যি। ভারতের মতো বড় দেশগুলির মধ্যে তাঁরাই একমাত্র আমেরিকার উপর সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করে। আমাদের এর সমাধান করতে হবে।" তাঁর বক্তব্য, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করার আগে ভারত মস্কো থেকে তেল কিনত না, বা কিনলেও সামান্য কিছু পরিমাণ কিনত। আর বর্তমানে, ভারত মুনাফাখোরদের মতো আচরণ করছে। রাশিয়ার তেল শোধনকারী সংস্থাগুলি ভারতের মাটিতে এসে মুনাফা করছে। আর মার্কিন করদাতাদের এই যুদ্ধের জন্য আরও বেশি অর্থ পাঠাতে হচ্ছে। এমনই অভিযোগ তাঁর।
তবে, গত সপ্তাহে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল যখন ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীকে 'একজন মহান প্রধানমন্ত্রী' বলে অভিহিত করেন এবং বলেন যে তিনি সবসময় তার 'বন্ধু' থাকবেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।