পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর ফের সীমান্ত বাণিজ্য (Border Trade) শুরু করতে আলোচনায় বসছে ভারত-চিন (India-China)।

জিনপিং ও মোদী
শেষ আপডেট: 14 August 2025 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর ফের সীমান্ত বাণিজ্য (Border Trade) শুরু করতে আলোচনায় বসছে ভারত-চিন (India-China)। ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই বাণিজ্য ফের চালুর উদ্যোগকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কাটানোর আর এক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে স্থানীয় পণ্যের বাণিজ্য পুনরায় শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে দুই দেশই। বিষয়টি এখন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বেজিংয়ের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, “ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য বহুদিন ধরেই দুই দেশের সীমান্তবাসীর জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়াতে ইচ্ছুক।” তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
প্রায় তিন দশক ধরে উভয় দেশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য যেমন মসলা, কার্পেট, কাঠের আসবাব, পশুখাদ্য, মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ঔষধি গাছ, বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র ও উল— নির্দিষ্ট তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে আদানপ্রদান করত। ২০১৭-১৮ সালে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩.১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির সময়, এবং সেই সঙ্গে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও অন্তত ৪ জন চিনা সেনার মৃত্যুর পর এই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি দুই দেশই সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই মধ্যে আগামী মাস থেকে ফের সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হতে চলেছে বলে খবর। চিন ভারতের জন্য কিছু সার রফতানি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছে।
আগামী অগস্টে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সাত বছর পর চিন সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা।
এই স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া চলছে এমন সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতীয় রফতানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলির তুলনায় অনেক বেশি।