রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য, নীরব থাকলে দাদাগিরি আরও বাড়বে, তাই চিন এবার খোলাখুলি ভারতের (India China) পাশে দাঁড়াচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 August 2025 21:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) হাবভাবকে সরাসরি ‘দাদাগিরি’ বলে আক্রমণ শানালেন ভারতে নিযুক্ত চিনের (China) রাষ্ট্রদূত স্যু ফেইহং। তাঁর দাবি, বহু দিন ধরে ফ্রি ট্রেড থেকে লাভবান হয়েছে আমেরিকা, অথচ এখন সেই আমেরিকাই শুল্ককে হাতিয়ার করে ব্যবহার করছে। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসন ভারতে রফতানিকৃত কিছু পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে, যার বিরোধিতা করছে বেজিং।
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য, নীরব থাকলে দাদাগিরি আরও বাড়বে, তাই চিন এবার খোলাখুলি ভারতের (India China) পাশে দাঁড়াচ্ছে। ফেইহং বলেন, “ভারত-চিন এশিয়ার ডবল ইঞ্জিন। একে অপরের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে দুই দেশ মিলিতভাবে এমন শক্তি গড়তে পারে, যার প্রভাব হবে এক যোগ এক মিলে দুইয়ের থেকেও বেশি।”
তিনি জানান, চিন ভারতীয় পণ্যের জন্য বাজার আরও খোলার ইচ্ছা রাখে। বিশেষত তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার এবং বায়োমেডিসিনে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক জায়গা রয়েছে। অন্যদিকে চিন দ্রুত বাড়ছে ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং, পরিকাঠামো নির্মাণ ও নবীন জ্বালানি ক্ষেত্রে। এই দুই ক্ষেত্র যুক্ত হলে দুই দেশেরই ব্যাপক উন্নতি সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।
একইসঙ্গে রাষ্ট্রদূতের দাবি, চিন চাইছে ভারতীয় সংস্থাগুলি তাদের দেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করুক। পাশাপাশি ভারত সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা, চিনা সংস্থাগুলিকে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন ব্যবসার পরিবেশ দেওয়া হোক, যাতে দুই দেশের শিল্প একসঙ্গে এগোতে পারে এবং দুই দেশের মানুষ উপকৃত হয়।
#WATCH | China's ambassador to India, Xu Feihong says, "...We welcome all Indian commodities to enter the Chinese market..." pic.twitter.com/YsyPTHBh8O
— ANI (@ANI) August 21, 2025
প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভারতের নির্দিষ্ট কিছু আমদানি পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ শতাংশ ট্রেড ট্যারিফ এবং রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত পরোক্ষভাবে অর্থ জোগাচ্ছে। নতুন শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ২৭ অগস্ট থেকে।