১০০ মিলিগ্রামের বেশি নাইমেসুলাইড ওরাল ডোজে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কেন এই পরিচিত পেইনকিলারকে নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র?

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 December 2025 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্য সুরক্ষা ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। মানুষের ব্যবহারের জন্য পেইনকিলার 'নাইমেসুলাইড' (Nimesulide)-এর ১০০ মিলিগ্রামের বেশি মাত্রার ওরাল ওষুধ তৈরি, বিক্রি ও বিতরণে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক (Union Health Ministry)। এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ১০০ মিলিগ্রামের বেশি মাত্রার নাইমেসুলাইড (Nimesulide) ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। এই নিষেধাজ্ঞার পিছনে রয়েছে ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড (DTAB)-এর সুপারিশ এবং ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (ICMR)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট।
কেন এই সিদ্ধান্ত
নাইমেসুলাইড একটি পরিচিত নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID), যা মূলত ব্যথা ও জ্বর কমাতে ব্যবহৃত হয়। বহু বছর ধরেই ভারতে এই ওষুধের ব্যবহার হলেও, বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মাত্রায় এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ, ১০০ মিলিগ্রামের বেশি মাত্রার ওরাল ডোজ মানবস্বাস্থ্যে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
লিভার ও কিডনির ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি মাত্রায় নাইমেসুলাইড (Nimesulide) লিভার ও কিডনির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক স্তরেও এই ওষুধের সঙ্গে লিভার টক্সিসিটি, এমনকি গুরুতর লিভার ড্যামেজের যোগ পাওয়া গিয়েছে। বয়স্ক মানুষ এবং যাঁদের আগে থেকেই শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
উল্লেখ্য, তাই বহু বছর আগে ১২ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য নাইমেসুলাইড (Nimesulide) নিষিদ্ধ করেছিল ভারত।
রোগী ও বাজারে প্রভাব
এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র ১০০ মিলিগ্রামের বেশি মাত্রার ইমিডিয়েট-রিলিজ (immediate-release) ওরাল ডোজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কম মাত্রার ওষুধ এবং অন্যান্য অনুমোদিত ব্যথানাশক বাজারে পাওয়া যাবে। ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে উচ্চমাত্রার পণ্য উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং বাজার থেকে মজুত ওষুধ ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও ভারতে নাইমেসুলাইড পরিচিত নাম, তবুও ব্যথানাশকের মোট বাজারে এর অংশ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির উপর প্রভাব সীমিত হলেও, ছোট সংস্থাগুলি কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক প্রবণতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বহু দেশেই নিরাপত্তাজনিত কারণে নাইমেসুলাইড (Nimesulide) কখনও অনুমোদনই পায়নি বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ, যাঁরা নিয়মিত এই ওষুধ ব্যবহার করেন, তাঁরা বিকল্প ব্যথানাশক নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এটাই এখন সবচেয়ে বড় বার্তা।