পরিসংখ্যান বলছে দুর্ঘটনার সংখ্যা খুব বেশি না হলেও, হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বিপুল শূন্যপদ - দুই মিলিয়ে দেশের বিমান নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 March 2026 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত পাঁচ বছরে দেশে মোট ২৩টি বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে (India aviation accidents data in last 5 years), সোমবার সংসদে এমনই তথ্য জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। নির্ধারিত (scheduled), অনির্ধারিত (non-scheduled) ফিক্সড-উইং বিমান এবং হেলিকপ্টার অপারেটর - সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ধরা হয়েছে। রাজ্যসভায় লিখিত উত্তরে এই তথ্য দেন অসামরিক বিমান পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহল।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার হার (প্রতি ১০,০০০ উড়ান ঘণ্টায়) ছিল ০.৫৩, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, নন শিডিউলড অপারেটরস (Non-Scheduled Operators)-এর ফিক্সড-উইং বিমানের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে প্রতি ১০,০০০ উড়ানে দুর্ঘটনার হার ছিল ০.২৭ (aircraft accident rate India)।
বছরভিত্তিক পরিসংখ্যান দেখলে,
২০২১ সালে দুর্ঘটনা: ৬টি
২০২২ সালে: ৪টি
২০২৩ সালে: ৪টি
২০২৪ সালে: ৩টি
২০২৫: ৬টি
গত বছরের ৬টি দুর্ঘটনার মধ্যে ৪টি ছিল হেলিকপ্টার সংক্রান্ত। এছাড়া একটি নির্ধারিত বিমানের এবং একটি NSOP ফিক্সড-উইং বিমানের দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
DGCA-তে শূন্যপদ, তবু নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ: সরকার
একই সঙ্গে, বেসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (Directorate General of Civil Aviation) বা DGCA-তে জনবলের ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিজিসিএ-তে অনুমোদিত মোট ১,৬৩০টি পদের মধ্যে ৭৮০-রও বেশি পদ এখনও খালি।
তবে এই ঘাটতি সত্ত্বেও সংস্থার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজকর্মে কোনও প্রভাব পড়েনি বলেই দাবি করেছেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ১৬৭ জন প্রার্থীকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১০৬ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এয়ারওয়ার্দিনেস অফিসার পদে ৪২ জনের বদলি নিয়োগের জন্য ইউপিএসসি (UPSC)-র রিজার্ভ প্যানেল থেকে নাম চাওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের শূন্যপদ পূরণের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পদে ৮২টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিভিন্ন স্তরে চলছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শূন্যপদ সামাল দিতে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও করা হচ্ছে।
সবশেষে তাঁর দাবি, ডিজিসিএ-র একটি সুসংহত নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থা (safety oversight mechanism) রয়েছে, যার ফলে জনবল ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বিমান নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি।
সব মিলিয়ে, পরিসংখ্যান বলছে দুর্ঘটনার সংখ্যা খুব বেশি না হলেও, হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বিপুল শূন্যপদ - দুই মিলিয়ে দেশের বিমান নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।