এয়ার ডিফেন্স শক্তিশালী করতে আরও এস-৪০০ ও ব্রাহ্মোস কেনার পথে ভারত। DAC বৈঠকে আজই মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ছাড়পত্র।

এস ৪০০ ও ব্রাহ্মোস
শেষ আপডেট: 27 March 2026 12:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনাশক্তি বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র। শুক্রবার প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদের (Defence Acquisition Council বা DAC) বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ছাড়পত্র মিলতে পারে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। উপস্থিত থাকবেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (Chief of Defence Staff) এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা।
৬০টি মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট (Medium Transport Aircraft) কেনা, অতিরিক্ত এস-৪০০ (S-400) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, নতুন আনম্যানড কমব্যাট এয়ারক্রাফট স্কোয়াড্রন (Unmanned Combat Aircraft Squadrons) এবং বিপুল সংখ্যক ব্রাহ্মোস (BrahMos) লং-রেঞ্জ ক্রুজ মিসাইল নিয়ে আলোচনা হতে পারে আজ।
এয়ার ডিফেন্স শক্তিশালী করাই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। এস-৪০০ সুদর্শন (S-400 Sudarshan) সিস্টেমের আরও পাঁচটি ইউনিট কেনার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force বা IAF) দল রাশিয়ায় রয়েছে চতুর্থ স্কোয়াড্রন গ্রহণের জন্য। সেটি এপ্রিল-মে মাসে দেশে আসার কথা। পঞ্চম স্কোয়াড্রন পৌঁছতে পারে নভেম্বর-ডিসেম্বরে।
উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুরে’র (Operation Sindoor) সময় এই এস-৪০০ সিস্টেমই একাধিক পাক যুদ্ধবিমানকে আটকাতে সক্ষম হয়েছিল। ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে লক্ষ্যভেদ—আইএএফ-এর অন্যতম দীর্ঘ পাল্লার এয়ার ইন্টারসেপশন বলে দাবি আধিকারিকদের। ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরোধেও এই সিস্টেম কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
এদিকে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রিমোটলি পাইলটেড স্ট্রাইক এয়ারক্রাফট (Remotely Piloted Strike Aircraft) বা কমব্যাট ড্রোনের চারটি স্কোয়াড্রন অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও ছাড়পত্র পেতে পারে। এতে নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়বে, নজরদারির পরিধিও বিস্তৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, স্থলবাহিনীর জন্য ৮০০ কিলোমিটার দূর থেকে হামলা চালানো সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল (Supersonic Cruise Missile) কেনার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি, ৩০০টি দেশীয় ধনুষ (Dhanush) হাউইৎজার (Howitzer) কেনার প্রস্তাবের কথা উঠতে পারে।
মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট প্রকল্পে ৬০টি বিমানের জন্য দরপত্র খতিয়ে দেখছে আইএএফ। দৌড়ে রয়েছে এমব্রায়ের (Embraer), লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin) ও ইলিউশিন (Ilyushin)। এই বিমানগুলি কৌশলগত ও ট্যাকটিক্যাল লিফট ক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা নেবে।
এর পাশাপাশি, ডিআরডিও (DRDO)-র ‘প্রজেক্ট কুশা’র (Project Kusha) অধীনে তৈরি লং-রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের পাঁচটি স্কোয়াড্রনের অনুমোদন ইতিমধ্যেই মিলেছে। সব মিলিয়ে, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন জোরদার করা এবং বিদেশ নির্ভরতা কমানোর দিকে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।