Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

রাম মন্দির উদ্বোধন: রাজীব-রাওয়ের ভুল শোধরানোর বার্তা দিল কংগ্রেস

দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর বুধবার কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে না। বস্তুত, সিপিএম বাদে আর কোনও দলই দ্রুততার সঙ্গে এই ব্যাপারে দলের অবস্থান জানায়নি। 

রাম মন্দির উদ্বোধন: রাজীব-রাওয়ের ভুল শোধরানোর বার্তা দিল কংগ্রেস

শেষ আপডেট: 11 January 2024 14:38

অমল সরকার

দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর বুধবার কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে না। বস্তুত, সিপিএম বাদে আর কোনও দলই দ্রুততার সঙ্গে এই ব্যাপারে দলের অবস্থান জানায়নি। 

যদিও কংগ্রেস ও বাম দলগুলির মধ্যে এই অনুষ্ঠান বর্জনের কারণের মধ্যে অনেকটাই মিল আছে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির বক্তব্য ছিল, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। এরসঙ্গে রাজনীতিকে জোড়া অনুচিত। তাছাড়া গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরএসএস এবং বিজেপি যুক্ত। 

অন্যদিকে, কংগ্রেস বলেছে, অযোধ্যায় ২২ জানুয়ারি মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠান পুরোপুরি আরএসএস ও বিজেপির কর্মসূচি। কংগ্রেসের বক্তব্য, মন্দির উদ্বোধন এবং রামলালার মূর্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে যে পাঁচজন যুক্ত থাকবেন, তাঁদের চারজন অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং রাজ্যপাল আনন্দিবেন প্যাটেল গেরুয়া শিবিরের লোক। পঞ্চম ব্যক্তি হলেন পুরোহিত। ফলে আরএসএস-বিজেপির অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের যোগদানের প্রশ্ন ওঠে না। 

কংগ্রেস সরকারিভাবে মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের সপক্ষে এই কথা বললেও এই সিদ্ধান্তের পিছনে আরও কারণ আছে। বস্তুত, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। 

দলীয় সূত্রের খবর, অযোধ্যা প্রশ্নে দলের অভ্যন্তরে মতভেদ ছিল এবং আছে। ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, প্রাক্তন সভাপতি সনিয়া গান্ধী এবং পার্টির লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরীরা যাবেন নাকি যাবেন না তা নিয়ে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারত জোড়ো যাত্রা তো বটেই তারও আগে থেকে কংগ্রেস বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে নীতির লড়াইয়ের কথা বলে আসছে। দুই শিবিরের মধ্যে মৌলিক ফারাক হল গেরুয়া শিবির হিন্দু জাতীয়তাবাদের কথা বলে। অন্যদিকে, কংগ্রেস জাত-ধর্ম নির্বিশেষে সম্প্রীতি রক্ষার কথা বলে আসছে। অযোধ্যায় নতুন মন্দিরে রামের মূর্তি প্রতিষ্ঠা হলেও সেটি পুরোপুরি হিন্দুত্ববাদীদের কর্মসূচি। ফলে কংগ্রেস যে সবাইকে নিয়ে চলার কথা বলছে, ২২-এর অনুষ্ঠানে যোগ দিলে সেই বার্তা বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। 

এই সিদ্ধান্তে দলের অনেকেই, বিশেষ করে উত্তর ভারতের নেতা-কর্মীরা সকলে যে সহমত হবেন না, দলীয় নেতৃত্বের তা জানা আছে। উত্তর ভারতের বহু নেতা আগেই ২২ তারিখের অনুষ্ঠানে যোগদানের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁরা এবার কী বলেন, সেদিকে নজর থাকবে দলের।

শুধু সাধারণ নেতা, কর্মীরাই নন, ২০২০-এর ৫ অগাস্ট নরেন্দ্র মোদী অযোধ্যায় মন্দিরের শিলান্যাস করার আগে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, ‘আমার বাবা প্রয়াত রাজীব গান্ধীর জন্যই অযোধ্যায় আজ রাম মন্দির নির্মাণ সম্ভব হতে চলেছে।’ সদ্য অনুষ্ঠিত হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রচার করে অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের সময় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর কৃতিত্ব স্মরণ করা উচিৎ। 

রাম মন্দিরের পিছনে রাজীবের অবদান কী? আসলে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রধানমন্ত্রী রাজীবের উদ্যোগেই অযোধ্যায় বন্ধ বাবরি মসজিদের তালা খোলার ব্যবস্থা হয়েছিল যা তাঁর মাতামহ জওহরলাল নেহরুর হস্তক্ষেপে ১৯৪৯ সাল  থেকে বন্ধ রেখেছিল প্রশাসন। রাজীব মসজিদের তালা খুলে রামলালার মূর্তি পূজার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বহিন্দু পরিষদকে সংলগ্ন জমিতে ভূমি পুজো করার সম্মতি দিয়েছিলেন। 

হিন্দু মন জয়ে রাজীব সিদ্ধান্ত দুটি নিলেও তাঁর সেই উদ্দেশ্য অবশ্য ব্যর্থ হয়। উল্টে কংগ্রেসের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করে মুসলিম সমাজ। ১৯৮৯-এর নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয় কংগ্রেস। 

দু’ বছরের মাথায় লোকসভার অন্তবর্তী নির্বাচনের প্রচারে রাজীব এলটিটিই জঙ্গিদের হাতে নিহত হওয়ার পর নরসিংহ রাওয়ের কংগ্রেস সরকার প্রাক্তন দলীয় প্রধানমন্ত্রীকে মরণোত্তর ‘ভারতরত্ন’ ঘোষণা করে। সেই সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের মুসলিম ভোট ব্যাংকে ফাটল আরও চওড়া হয়। 

পরের ঘটনাবলী ১৯৯২-এর। সে বছর ডিসেম্বরে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বাবরি মসজিদ ভাঙার সময় দিল্লির ক্ষমতায় কংগ্রেস। অভিযোগ ওঠে লখনউয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংহের মতোই দিল্লিতে কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী রাও মসজিদ ভাঙার সময় হাত গুটিয়ে বসেছিলেন। 

অযোধ্যার সেই মসজিদ এলাকা থেকে ফৈজাবাদ সেনা ক্যান্টনমেন্টের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। রাও চাইলেই সেনা পাঠিয়ে মসজিদ রক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু কিছুই করেননি। 

ফলে বাবরি মসজিদ নিয়ে রাজীব ও রাওয়ের ভূমিকার খেসারত আজও কংগ্রেসকে দিতে হচ্ছে। রাজ্য রাজ্যে মুসলিমরা কংগ্রেসকে ছেড়ে আঞ্চলিক দলে চলে গিয়েছে। এক-দুটি রাজ্য ছা়ডা তারা কংগ্রেসের ছাতার তলায় এখনও ফেরেনি। বাবরি ধ্বংসের পর প্রধানমন্ত্রী রাওয়ের দিকে নিষ্ক্রিয়তার আঙুল উঠলে তিনি মসজিদ পুনর্নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীকালে আর উচ্চবাচ্য করেননি। ফলে বাবরি  ধ্বংসের দায় বিজেপি-সহ হিন্দুত্ববাদীদের পাশাপাশি কংগ্রেসের ঘাড়েও চেপে আছে। 

যেমন ১৯৮৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর শিখ জঙ্গি দমনে অমৃতসরে স্বর্ণ মন্দিরে সেনা অভিযানের খেসারত বহুদিন বইতে হয় কংগ্রেসকে। শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে ইন্দিরার মৃত্যুর পর দেশ জুড়ে দাঙ্গা এবং শিখ-বিরোধী দাঙ্গার ক্ষত এখনও ওই ধর্ম-সম্প্রদায়ের অনেকেই বয়ে বেড়ান। বহু বছর পর কংগ্রেস সরকারিভাবে ঘোষণা করে অপারেশন ব্লু-স্টার কার্যকর এবং শিখ বিরোধী দাঙ্গা আটকাতে না পারাটা ছিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভুল। ২০০৪ এ তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর অর্থনীতির পণ্ডিত মনমোহন সিংহকে প্রধানমন্ত্রী করার পিছনে একাধিক কারণের একটি ছিল শিখ মন জয়ের চেষ্টা। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে তারপর অমরিন্দর সিংহের নেতৃত্বে পাঞ্জাবে ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। 

অযোধ্যা নিয়ে কংগ্রেস সরাসরি রাজীব ও রাওয়ের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় না তুললেও সংখ্যালঘু মনে প্রলেপ দিতেই মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। বিজেপি এই সুবাদে কংগ্রেসকে হিন্দু বিরোধী বলে প্রচার চালাবে এবং লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে ইস্যু করবে জেনেও দীর্ঘমেয়াদে দলের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। 

তবে কংগ্রেসের বহু নেতাই একান্তে মানছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরাও। জোটের কোনও দলই ২২ জানুয়ারির অনুষ্ঠানে যোগদান করছে না। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেখ যাদব যেমন বলেছেন, রাম মন্দির সারা বছরের গন্তব্য। ২২ তারিখেই কেন যেতে হবে। ভগবান আমাদের হৃদয়ে বিরাজ করছেন। তৃণমূল কংগ্রেস, আরজেডি, জেডিইউ, ডিএমকে, আপ, শিবসেনা, এনসিপি’র মতো দলগুলিও রাম মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে আগেই বিজেপি-আরএসএসের কর্মসূচি বলে ঘোষণা করেছে।


```